নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিদায়ী বছরে ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৭১৫টি অভিযানে গ্রেফতার করেছে ৫৬২ জন মাদক কারবারীকে। এসব অভিযানে ৫৪২টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি অভিযানকালে ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্ট কোটি টাকা মূল্যের সম্পদও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) যশোর জেলা কার্যালয়ের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের ব্যবধানে জেলায় পরিচালিত ১ হাজার ৭১৫টি অভিযানে ৫৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৫৬২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৬০০ টাকা।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, দায়ের করা মামলার মধ্যে ১৫৯টি নিয়মিত মামলা এবং ৩৮৩টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে করা মামলা। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা, সীমান্তবর্তী অঞ্চল, বাসস্ট্যান্ড, বাজার, আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।
বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার :
এক বছরে পরিচালিত অভিযানে সবচেয়ে বেশি উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা ট্যাবলেট। মোট ৫৫ হাজার ৭০১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় ৮৯ কেজি ৫৬৫ গ্রাম গাঁজা। এ ছাড়া ২টি গাঁজা গাছও জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধেও নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ফেন্সিডিল, হেরোইন ও অন্যান্য মাদক :
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অন্যান্য মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৬৫ বোতল ফেন্সিডিল, ১ গ্রাম হেরোইন এবং ৩১৪ পিস টাপেন্টাডল। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৩৩৮ বোতল বিদেশি মদ (১২ দশমিক ৫ লিটার), ১৭৬ বোতল আর.এস. (মোট ২০৪ লিটার), ২৮০ লিটার তাড়ি এবং ১২ লিটার ২৫০ মিলিলিটার চোলাই মদ।
যানবাহন, নগদ টাকা ও সরঞ্জাম জব্দ :
মাদক পরিবহন ও লেনদেনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে অভিযানে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি মোবাইল ফোন, ২ সেট ওয়াকিটকি, একটি মোটরসাইকেল এবং একটি প্রাইভেট কার। পাশাপাশি মাদক বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নগদ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮০ টাকা জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক পারভীন আক্তার বলেন, মাদক নির্মূলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে যশোর জেলায় নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মাদকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। সে কারণে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে অধিদপ্তর। ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও বিস্তৃত ও জোরালো করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
