ভারতের পুনে শহরের বুধওয়ার পেথ এলাকায় অবৈধভাবে আটক ও দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবারও বড় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে ১১ জন ‘বাংলাদেশি’ নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, গত সাত দিনের মধ্যে এটি ছিল ওই এলাকায় পুলিশের দ্বিতীয় বৃহৎ অভিযান। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি একই এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি নারী ও কয়েকজন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়।
বিশাল পুলিশি অভিযান
বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপপুলিশ কমিশনার (জোন-১) ঋষিকেশ রাওয়ালের নেতৃত্বে প্রায় ৭০০ সদস্যের একটি বড় পুলিশ দল বুধওয়ার পেথসহ আশপাশের যৌনপল্লিতে একযোগে তল্লাশি চালায়। অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নারী এবং জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নিযুক্ত নাবালিকাদের শনাক্ত করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য।
পুনে পুলিশ কমিশনার অমিতেশ কুমার জানিয়েছেন, যেসব ভবন বা স্থাপনায় বাংলাদেশি নারীদের অবৈধভাবে রাখা হয়েছিল, সেগুলো সিলগালা করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হবে এবং উদ্ধার হওয়া নারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আগের উদ্ধার অভিযান
গত বছরের অক্টোবরে পুনেতে আরেকটি ঘটনায় দুই বাংলাদেশি তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের একজন সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানান, শহরের কাত্রজ এলাকায় তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে আম্বেগাঁও-পাঠার এলাকা থেকেও আরেক তরুণীকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া দুজনের বয়স ছিল ২২ ও ২০ বছর।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ‘বিউটি পারলারে চাকরি’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার করা হয়েছিল। পরে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় ধনকাওয়াদি এলাকার বাসিন্দা রজু পাটিলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। তাঁর স্ত্রীকেও এই পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে খোঁজা হচ্ছে।
পাচার চক্রের বিস্তার
কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধওয়ার পেথ, কাত্রজ ও আম্বেগাঁও এলাকায় গত কয়েক মাসে একই ধরনের একাধিক পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অননুমোদিত এজেন্ট এবং স্থানীয় দালালদের যোগসাজশে আন্তসীমান্ত পাচার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
