আব্দুর রউফ
সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়ে তিনি আপসহীন নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন-এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
যশোর জেলা বিএনপির উদ্যোগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে যশোর ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানে আয়োজিত নাগরিক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে আবেগঘন কণ্ঠে এসব কথা বলা হয়। কনকনে শীত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে টাউন হল ময়দান পরিণত হয় শোক ও শ্রদ্ধার এক আবেগঘন প্রাঙ্গণে।
বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন নাÑতিনি ছিলেন ১৮ কোটি মানুষের নেত্রী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিটি সংকটে তিনি জাতির সামনে আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রাম উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তারা আরও বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যশোরের টাউন হল মাঠ থেকেই তিনি গণতন্ত্রের বিজয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অকাল বৈধব্যের বেদনা বুকে ধারণ করেও তিনি আপোষহীনভাবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বক্তারা বলেন, সামরিক শাসনে বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর গণতন্ত্রের বাংলাদেশকে তিনি স্থিতিশীল পথে ফেরান। দুর্বল অর্থনীতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেন। সমমর্যাদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত রক্ষা, পানি চুক্তি ও বাণিজ্য কূটনীতিতে তিনি সাহসী ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে তিনি সকলকে নিয়ে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যশোরবাসীর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। যশোরের প্রতিটি প্রান্তেই তাঁর উন্নয়নের ছোঁয়া রয়েছে। দেশ থাকবে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন থাকবে-ততদিন মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বেগম খালেদা জিয়াকে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু জাফর, জেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আবদুল মান্নান, বিশিষ্ট আইনজীবী এনামুল হক, যশোর সংবাদ পত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, বিশিষ্ট শিক্ষা বিদ অধ্যাপক আয়ুব হোসেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিক উজ্জামান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ জেলা শাখার সম্পাদক তসলিম উর রহমান, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক বেনজিন খান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শ্যামল দাস,ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশ অব বাংলাদেশ যশোর জেলা শাখার নেতা হারুন অর রশিদ, সিপিবি যশোর জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, জাতীয় নাগরিক পার্টি জেলা শাখার আহ্বায়ক নুরুজ্জামান, যশোর ৫ মনিরামপুর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রশিদ বিন ওয়াক্কাস, উদীচী যশোর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. আমিনুর রহমান হিরু, আইডিবি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রুহুল আমিন আমিন, জুলাই যোদ্ধা ও সিপিবি মনোনীত যশোর ৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রাশেদ খান প্রমুখ।
শোকসভা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়। শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
