নিজস্ব প্রতিবেদক
হিমেল বাতাস আর কনকনে শীতে শহর যেন নিজেকে গুটিয়ে নেয়। ভোরের যশোরে সূর্য ওঠার আগেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় লালদীঘি পাড়। তবু জীবন থেমে থাকে না। শীতে দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিদিনের মতোই সেখানে এসে জড়ো হন শ্রমজীবী মানুষগুলো—একদিনের কাজ, একমুঠো ভাত, আর পরিবারের মুখে হাসি ফেরানোর আশায়।
কিন্তু শৈত্যপ্রবাহের নির্মমতায় আজ সেই চেনা ভিড়টুকুও আর আগের মতো নেই। যারা এসেছে, তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি, শরীরে কাঁপুনি, বুকের ভেতর চাপা দুশ্চিন্তা। কনকনে ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষ যেন একেকটি নীরব গল্প—কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ দিনমজুর, কেউ বা রিকশাচালক। শীতের কাছে সবাই সমান অসহায়।
এই শীতল সকালে তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় লালদীঘি পাড়ে শ্রমজীবী মানুষের হাতে তুলে দিলেন উষ্ণতার কম্বল। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই কম্বল বিতরণ যেন শীতের ভেতর এক টুকরো মানবিক উষ্ণতা হয়ে উঠল।
এ সময় অমিতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর। তাদের নীরব উপস্থিতি, মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়ার মুহূর্তগুলো—সব মিলিয়ে সেখানে তৈরি হয় এক আবেগঘন দৃশ্য। কারও চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার জল, কারও ঠোঁটে চাপা হাসি। শীতের সকালে কেউ কেউ কম্বলটা গায়ে জড়িয়েই দীর্ঘশ্বাস ফেলে যেন একটু স্বস্তি খুঁজে নিলেন।
গতকালও যশোর টাউন হল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে দেড় হাজার শ্রমজীবী মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। ধারাবাহিক এই উদ্যোগ শুধু শীত নিবারণের চেষ্টা নয়, বরং মানুষের পাশে থাকার এক মানবিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
কনকনে শীতের ভেতর সেই কম্বলগুলো ছিল শুধু কাপড় নয়—ছিল ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার নীরব বার্তা। শীতের সকালে লালদীঘি পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমজীবী মানুষগুলোর কাছে সেই উষ্ণতা হয়তো কিছুক্ষণের, কিন্তু সেই স্পর্শ থেকে জন্ম নেওয়া আশাটুকু থেকে যাবে অনেকদিন।
