যশোর শিক্ষা বোর্ডে কমেছে পাসের হার, জিপিএ-৫

173

 

কল্যাণ রিপোর্ট : এইচএসসি পরীক্ষার ফলে গত বছরের দেশসেরা যশোর শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দু’টোই কমেছে। গত বছরের ৮৩ দশমিক ৪২ শতাংশের বিপরীতে এবারে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২ শতাংশ। আর গত বছর এই বোর্ডে ৪ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এ বছর এই সংখ্যা নেমে এসেছে ২ হাজার ৪৪৭-এ। তা সত্ত্বেও এ বছরে ফল ভালো হয়েছে বলে দাবি করছে শিক্ষা বোর্ড।
গতকাল রোববার দুপুর ১টায় যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধবচন্দ্র রুদ্র যশোর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এসময় তিনি বলেন, ‘গতবছর যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ছিল অনিয়মিত। এই সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। তারা এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল। এটা পরীক্ষার ফলে মোট পাসের হারে প্রভাব ফেলে। এ বছর অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অনেক কম।’
এ বছর জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘এবারের পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা, ইংরেজি, গণিত, জীববিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষার্থীরা ভালো করতে পারেনি। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এসব বিষয়ের কোনও না কোনও বিষয়ে খারাপ করেছে। সেই হিসাবে বাকি বিষয়গুলোতে ভালো করলেও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।’
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ জেলার পাঁচশ ৬৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৫ হাজার ছয়শ ৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ হাজার সাতশ ৯১ ও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪ হাজার নয়শ একজন। মোট পাস করেছে ৬৭ হাজার দুই জন।
মাধবচন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘এ বছর যশোর বোর্ডের অধীন চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করতে পারেনি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেহেরপুরের মড়কা জাগরণ কলেজ (পরীক্ষার্থী দুই জন), মাগুরার বীরেন শিকদার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ছয় জন) ও দক্ষিণ নোয়াপাড়া সম্মিলনী কলেজ (পরীক্ষার্থী চার জন) এবং ঝিনাইদহের ডিজিপিএল মডেল কলেজ (পরীক্ষার্থী তিন জন)।
যেসব কলেজের পাসের হার শূন্য, সেগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে কলেজ পরিদর্শক অমল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গত বছর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এমন ছিল, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলোর পাঠদানের অনুমতি বন্ধ রয়েছে। এবারও নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’