রাস্তায় ঘুরছে কুমির, গৃহবন্দি গ্রামবাসী!

205

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা খুলে হতবাক ভারতের বিহারের পশ্চিম চম্পারণের বগহা ব্লকের বাসিন্দারা। বাড়ির চারপাশে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে কুমির। সকাল-সন্ধে গ্রামের রাস্তাঘাটে বেরোনোর সাহস পাচ্ছেন না লোকজন। হঠাৎ হঠাৎ সেখানেও সরসরিয়ে হাজির হচ্ছে বিশাল সরীসৃপ।
কুমির-আতঙ্কে ঘুম কেড়েছে বিহারের পশ্চিম চম্পারণের বগহা ব্লকের কয়েকটি গ্রামের মানুষের। মূলত গ্রাম-লাগোয়া গ-ক নদীর কুমির প্রকল্পের কারণেই এমনটি ঘটছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। বর্ষায় ফুলেফেঁপে উঠেছে গ-ক। গ-কে তৈরি কুমির প্রকল্পের ‘বাসিন্দারা’ ঢুকছে গ্রামে গ্রামে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাছ থেকে তেমন কোনও সাহায্য না পেয়ে দেশি উপায়ে জাল ফেলে গ্রামে ঢুকে পড়া কুমির ধরছেন তারা। গাছে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখছেন সেগুলোকে। গত চার দিনে মিলেছে দুইটি কুমির।
গেল সপ্তাহে রাতে বাড়ির উঠোনে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন পটখোলি গ্রামের বিবেক কুমার। পোষা কুকুর হঠাৎ চিৎকার করতে শুরু করে। প্রথমে কিছু টের পাননি তিনি। তখনই দেখতে পান অন্ধকারে বড় কিছু একটা নড়াচড়া করছে উঠোনের এক কোণায়। একটু এগোতেই চোখ চড়ড়কগাছ বিবেকের। দেখেন বাড়িতে ঢুকেছে কুমির। ভয়ে চেঁচামেচি জুড়ে দেন তিনি। ভিড় জমে যায়। ততক্ষণে পড়শির বাড়িতে ঢুকে যায় কুমিরটি। অনেক কষ্টে সেটি ধরা হয়। খবর পাঠানো হয় বন বিভাগে।
বগহার সরকারি কর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার বলেন, ‘গ্রামে কুমির ঢোকার খবর পেয়েছি। বন দপ্তরকে জানানো হয়েছে। পটখোলায় মিলেছে একটি কুমির। অন্যগুলি ধরার চেষ্টা চলছে।’
প্রশাসনের হিসাবে, ওই এলাকায় প্রায় ছয়টি কুমির ঢুকেছে। দুইটি কুমির ধরা গিয়েছে। বন দপ্তর জানায়, গ-ক নদীতে পরীক্ষামূলক ভাবে কুমির প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কুমির গ্রামে ঢুকে পড়েছে। বিহারের প্রধান মুখ্য বনপাল দেবেন্দ্র কুমার শুক্লা বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

Previous articleশাকিবের কানে সেফটিপিন
Next articleবিপিএলে এবার আইকন হয়ে খেলতে চাননি মাশরাফি