কালীগঞ্জে ঘের কর্মচারীকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ

221

 

কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : মাছ চুরি ও টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এক ঘের কর্মচারীকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে মরদেহে নেট বেঁধে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নের গোবরাখালির একটি চিংড়ি ঘেরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ সরকার (২৬)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের সুধান্য সরকারের ছেলে।
মৃতের মামাতো ভাই একই গ্রামের সঞ্জয় সরকার ও চাচাতো ভাই ভোলা সরকার জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের মুজিবর রহমান টুটুল ও টোনা গ্রামের শিবদাস সরকারের পরিচালনাধীন গোবরাখালির ৩৩০ বিঘা চিংড়ি ঘেরের কর্মচারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার।

স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ঘেরের আড়াই কেজি মাছ চুরি ও মাছ বিক্রির ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিশ্বজিতের ওপর নির্যাতন চালায় শিবপদ সরকার, দেবাশীষ সরকার, টুটুল মোড়লসহ তাদের লোকজন।
এভাবে এক সপ্তাহ ধরে তাকে ঘেরের বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিবপদ সরকার, দেবাশীষ ম-ল, টুটুল মোড়লসহ তাদের ঘের কর্মচারীরা বিশ্বজিতকে কয়েক দফায় মারপিটের একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘেরের বাসায় বিশ্বজিৎ মারা যায়।
বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মৃতের গলায় নেট দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঘেরের শ্যালোমেশিনের বাসার আড়ায় ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়।
এরপর তুষারকে দিয়ে রাতেই মরদেহ সৎকার করার জন্য বলা হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে গতকাল শনিবার ভোরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কালিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কালিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লস্কর জায়াদুল হক বলেন, প্রথমে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হলেও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Previous articleলম্পট খোকন মোল্লা গ্রেফতার
Next articleনড়াইলে ২৯ স্কুলের জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সম্মাননা