ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

0
204

 

কল্যাণ ডেস্ক : যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উৎসবের আমেজে সারাদেশে গত শনিবার উদযাপিত হয়েছে। ত্যাগের মহিমা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সাধ্যমতো পশু কোরবানি দিয়ে এবং তা গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ঈদের দিন বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের সুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল আজহা। সারাবিশ্বের মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও করুণা লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিমের (আ.) পুত্রকে কোরবানির প্রতীকী ত্যাগের ঐতিহ্য অনুসরণে ১০ জিলহজ পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। প্রতিবারের মতো এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। আর রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও বিচারপতিসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষ হয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয় মনোরম সাজে। ঈদ উপলক্ষ্যে ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।
ঈদের নামাজের পরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় পশু কোরবানি। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অলি-গলিতে গরু-ছাগল জবাই করা হয়। পরে গোশত বিতরণ করা হয় দরিদ্রদের মধ্যে। চলে আত্মীয়দের গোশত মাঝে বিতরণ।
যশোর : যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে যশোরে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়।
কেন্দ্রীয় ঈদগাহে যশোরে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮ টায় এই জামাতে হাজার হাজার মুসল্লী অংশ নেন।
গত কয়েক বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা। এসব দিক বিবেচনা করে এবার পুরো ঈদগাহ ত্রিপল দিয়ে ছেয়ে ফেলা হয়। ফলে মাঠে কাদা-পানি ছিল না। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য পুরো মাঠজুড়ে দুই শতাধিক সিলিং ফ্যান টানানো হয়। মাঠে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। সারিবদ্ধ ভাবে মাঠে মুসল্লীরা প্রবেশ করেন। জামাত শেষে মুসলিম উম্মাহ’র শান্তি কামনা ছাড়াও মায়ানমারের মুসলিম নাগরিকদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
যশোর ঈদগাহ ময়দান ছাড়াও শহরের কারবালা জামে মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। যশোর উপশহর মার্কাজ মসজিদ, উপশহর ঢাকা রোড, উপশহর ঈদগাহ, আমিনিয়া আলিয়া মাদরাসা, দড়াটানা মসজিদ, চৌরাস্তা জামে মসজিদ, পুলিশ লাইন মসজিদ, রেলগেট মসজিদে ঈদের বড় জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়।