আ. লীগের সেই দুই নেতার দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল আরো দুজনের

166

কল্যাণ রিপোর্ট : কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই নেতার দ্বন্দ্বে আরো দুজন পপ্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের দুজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন।
আওয়ামী লীগের সেই দুই নেতা হলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কেরামত আলী বিশ্বাস ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বখতিয়ার হোসেন। কেরামত ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান। আর বখতিয়ার ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান।
গত বছরের ৭ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বখতিয়ারকে পরাজিত করে জয়ী হন বিদ্রোহী প্রার্থী কেরামত। এরপর গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামে এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমান আলী মন্ডল (৪২) ও শাহাবুদ্দিন (৪৫) নিহত হন। আহত হয় অন্তত ১৫ জন। এই ঘটনায় মামলার পর পুলিশ প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা বখতিয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্তি পান বখতিয়ার।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, আজ দুপুর ২টার দিকে ঝাউদিয়ার বাখইল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত আলীর সমর্থক আজিজুল হক মন্ডল ও বখতিয়ার হোসেনের লোকজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেরামতের পক্ষের বিল্লাল হোসেন ও বখতিয়ারের পক্ষের এনামুল ঘটনাস্থলে নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে নজরুল ডাকালিসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত আলী বিশ্বাস ও বখতিয়ার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কমলেশ দুজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।
নিহত বিল্লাল বাখইল গ্রামের মজিবরের ছেলে ও এনামুল কলিমুদ্দিন হকের ছেলে।