রোহিঙ্গা নারীকে সান্ত¡নায় কাঁদলেন এরদোয়ানপত্নী

160

 

কল্যাণ ডেস্ক : এমিনে, সুদূর তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের স্ত্রী, তুরস্কের ফার্স্ট লেডি।
বৃহস্পতিবার আসার পরই ছুটে গেছেন কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে, গত ২৫ আগস্ট থেকে যে সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম।
এমিনে এরদোয়ান বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তুরস্কের একটি বিশেষ বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সড়ক পথে বেলা পৌনে দুইটার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।
এ সময় ক্যাম্পের দেশি-বিদেশি কর্মকতারা তাকে স্বাগত জানান। এরদোয়ানপতœী পায়ে হেঁটে নিবন্ধিত ও অস্থায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ঘুরে দেখেন।
এ সময় তিনি দোভাষীর মাধ্যমে রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন। রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া থেকে পদে পদে যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তা শোনেন।
এক পর্যায়ে উখিয়ার কুতুপালংয়ের ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় এক নারী কাঁদতে কাঁদতে এমিনে এরদোয়ানের দিকে এগিয়ে আসেন। তিনিও দু’বাহু এগিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে নেন।
এ সময় ওই নারীকে সান্ত¡না দিতে গিয়ে তুরস্কের ফার্স্ট লেডিও তার আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। নিজেও কেঁদে ফেলেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শুধু ওই নারীই নন, এদিন ক্যাম্পের আরও বেশ কয়েকজন নারীকে সান্ত¡না দিতে গিয়ে কেঁদেছেন এমিনে। পরে আবেগ চেপে রেখে তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার কথা জানান তিনি।
শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমিনে জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কথা জাতিসংঘের সাধারণ সভায় তুলে ধরবেন তার স্বামী ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ ও সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এরদোয়ানপতœী বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
এ সময় এমিনে এরদোয়ানের সঙ্গে ছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলু, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এরপর বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন এমিনে এরদোয়ান।
গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশন ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করলে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত শত শত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে এসেছেন। আর প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা।

Previous articleরাখাইনে সবাইকে রক্ষার চেষ্টা করছি : সু চি
Next articleনাভারণে কাভার্ড ভ্যান চাপায় শ্রমিক নেতা নিহত