প্রকৃতিকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন মা দুর্গা

342

 

লিটন কবির : প্রকৃতিকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন মা দুর্গা। শারদ বাতাসে বিদায়ের জল। প্রকৃতিও যেন ঝরেছে ভক্তদের হয়ে। উৎসব, আনন্দের বর্ণিল দেবিপক্ষ শেষে ভক্তকুলকে বিষাদে ভাসিয়ে বিদায় নিলেন মহামায়া জগজ্জননী দেবী দুর্গা। মর্ত্যলোক থেকে চার সন্তানকে সাথে নিয়ে তিনি ফিরে গেলেন পতিগৃহ কৈলাসে। আর এরই সাথে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হল সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপনী দিন মহাদশমীর শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর আরাধনা শেষে যাত্রামঙ্গল ও শান্তি জল গ্রহণ শেষে শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এ শারদীয় দূর্গোৎসব। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় এ নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়।
১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়াতে নৌকায় চড়ে মর্ত্যলোকে এসেছিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী। মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমীর সকল আনুষ্ঠানিকতা ও পূজা আর্চনার পর গতকাল পালিত হল বিজয়া দশমীর সকল আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচদিনের বাঁধভাঙ্গা আনন্দের পর ভক্তরা গতকাল বিজয়া দশমীর দিনে ছিলেন অশ্রুসিক্ত। মহালয়ার দিন শুরু হয়েছিল দেবীপক্ষ। আর ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হয় পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিবারের মতো মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছেন।

এরপর ম-পগুলোতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। ভক্তরা জানান, হৃদয়ে বেদনা থাকলেও রঙিন মুখে দেবীকে বিদায় জানাতে এই সিঁদুর খেলা। দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পুজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে যশোরের ম-পগুলো সন্ধ্যার পর থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ম-পগুলো থেকে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় শহরের লালদীঘিপাড় পুকুরে।


বৈচিত্রময় মন্ডপ আর তোরণের সাথে এবার ব্যাতিক্রমী বর্ণিল আলোকসজ্জায় মাতিয়ে দিয়ে যশোরের আট উপজেলায় সর্বমোট ৬৫৪ টি মন্ডপের মধ্যে জেলা সদরে ১৪৪টি, চৌগাছায় ৪৩ টি, ঝিকরগাছায় ৫১ টি, শার্শায় ২৭ টি, বাঘারপাড়ায় ৮৪টি, অভয়নগরে ১২২ টি, মণিরামপুরে ৮৯ টি এবং কেশবপুর উপজেলায় ৯১টি।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে যশোর পৌর এলাকার পুজামন্ডপের পূজারীরা দেবীপ্রতিমা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান নিয়ে শহরে শোভাযাত্রা বের করে লালদীঘিতে সমবেত হয়। অসংখ্য ভক্ত-পূজারীর উপস্থিতিতে লালদীঘির পাড়ে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সন্ধ্যায় উলুধ্বনী, শঙ্খ, জয় ঢাক আর আতশবাজির ঝলকানিতে লালদীঘির মধ্যে নৌকায় প্রতিমা রেখে সাত পাক ঘোরানোর পর দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। এসময় উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গভীর রাত পর্যন্ত এ নিরঞ্জন কার্যক্রম চলে।
নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে যশোরবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান, জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপংকর দাস রতন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এ শারদীয় দুর্গোৎসব অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তি-শৃঙ্খলার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। যা একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনসহ প্রতিমা নিরঞ্জন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। সার্বিক সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, র‌্যাব, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তারা। নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুন্ডু।

Previous articleস্কুলছাত্রীকে জোর করে ধর্মান্তরের পর বিয়ের অভিযোগ
Next article‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জান্নাতুল নাঈম বিয়ে করেছিলেন