দূর মহাকাশে কি পৃথিবী পেলেন বিজ্ঞানীরা?

409

 

প্রযুক্তি ডেস্ক : একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি ২৬ কোটি আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবী আকৃতির একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গরম ও ধাতব এই গ্রহটি পৃথিবীর মতোই একটি নক্ষত্রকে পদক্ষিণ করছে। অবশ্য গ্রহটি পরীক্ষা করে এর আকৃতি ঠিক পৃথিবীর মতো নয় বলেই বিজ্ঞানীদের ধারণা। তাদের দাবি সেটি আকৃতিতে অন্তত ২০ ভাগ বড়।

গেলো সোমবার মহাকাশ বিজ্ঞান ভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘নেচার এস্ট্রোনমি’তে এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশ পায়। নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটির নাম রাখা হয়েছে কে২-২২৯বি।

তবে পৃথিবীর আকৃতির হলেও এর পরিবেশ কিন্তু একেবারেই অন্যরকম। বিজ্ঞানীরা বলছেন দিনের বেলা অর্থাৎ নক্ষত্রের দিকে যখন গ্রহটি মুখ করে থাকে তখন এর তাপমাত্রা ২ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

গ্রহটি যে নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে সেখানে এর অবস্থান মাঝামাঝিতে। তবে নক্ষত্র পদক্ষিণ করতে গ্রহটির সময় লাগে মাত্র ১৪ ঘণ্টা। বিজ্ঞানীদের ধারণা দুটি প্রকাণ্ড গ্রহাণু সদৃশ উল্কাপিণ্ডের সংঘর্ষের ফলে এমন গ্রহের সৃষ্টি।

ফ্রান্সের এইক্স মার্শেলি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কে২ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন। এই গবেষণায় যৌথভাবে কাজ করেন যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক। গ্রহটির সন্ধান পেতে তারা ডিএসটি (Doppler spectroscopy technique) কৌশল ব্যবহার করেন।

গ্রহটি আবিষ্কার প্রসঙ্গে ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডেভিড আর্মস্ট্রং বলেন, বুধের মতো উচ্চ ঘনত্বের গ্রহটির সন্ধান পেয়ে প্রথমে আমরা আশ্চর্যই হয়েছিলাম। তবে এর ফলে এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে এমন গ্রহ মহাকাশে অনেক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রহটি দেখে প্রথমেই আমরা পৃথিবীর সঙ্গে এর মিল খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু গবেষণা যতোই এগিয়ে যেতে থাকে, ততোই স্পষ্ট হতে থাকে যে সেটি পৃথিবীর চেয়ে বুধের সঙ্গেই মিল রয়েছে বেশি।

নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটির সঙ্গে পৃথিবীর মিল না থাকলেও হতাশ হচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। কারণ মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো টেলিস্কোপ ‘কেপলার’ পৃথিবী সদৃশ প্রচুর গ্রহের সন্ধান আগেই দিয়ে দিয়েছে। এখন যে কাজটা বাকি রয়েছে, তা হচ্ছে সেখানে যাওয়ার মতো উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার করা।

Previous articleবাঘের কামড়ের ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকা এক আতিয়ারের জীবন কাহিনী
Next articleবাজলো রণবীর-দীপিকার বিয়ের ঘণ্টা!