‘বাগেরহাটের হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় বেনাপোলগামী বাসে ডাকাতি’

192

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাগেরহাটের বারাকপুর শ্রীঘাট এলাকায় কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী ‘কুয়াকাটা এক্সপ্রেসের’ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৭৩২) একটি বাসে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
যাত্রীবেশী ডাকাতরা ১৩ যাত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে রাত চারটার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে। গাড়িতে থাকা যাত্রীদের অনেকে চিকিৎসার জন্য এবং প্রায় সবাই ভারতের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তাদের সবার পাসপোর্ট, টাকা, ব্যাগ ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
আহত যাত্রীরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাসটি বেনাপোলের উদ্দেশে কুয়াকাটা থেকে রওনা হয়। রাত আড়াইটার দিকে বাগেরহাটের বারাকপুর এলাকায় যাত্রীবেশী দশ ডাকাত হঠাৎ ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়ে বাসটির চালক, হেলপারসহ ১৩ জনকে ছুরি মেরে ত্রাস সৃষ্টি করে। তারা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা, গহনাসহ মূল্যবান মালামাল লুটপাট শুরু করে। এসময় ডাকাতরা গাড়ির বাতি জ্বালাতে দেয়নি।
গাড়ির হেলপার জামির হোসেন জানান, পিরোজপুর থেকে যে দশ যাত্রী গাড়িতে ওঠে, তারাই ছিল ডাকাত। তাদের সবার টিকিট বুকিং ছিল অনলাইনে। ডাকাতির পর তারা যেখানে নামে, সেখানে একটি পিকআপ ভ্যান তাদের নেবার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। ওই পিকআপটি ডাকাতরকে তুলে নিয়ে দ্রুত বাগেরহাটের দিকে চলে যায়।
যাত্রীরা বলেন, হাইওয়ে পুলিশের সাথে যোগসাজসে এই ডাকাতি হয়। এ জন্য ডাকাতদল বীরদর্পে
পিকআপ চড়ে বাগেরহাটের দিকে চলে যায়। হাইওয়ে পুলিশ সারা দিন সড়কে ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজী করেন। আর সন্ধার পর সড়ক অরক্ষিত রেখে নির্বৃঘ্ন ডাকাতি করবার জন্য ডাকাতদের সুরক্ষা দিয়ে থাকেন। যাত্রীরা বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মানুষের কোন কল্যাণে আসছে না।
কাটাখালি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, ডাকাতির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

Previous articleআ. লীগের তৃণমূলে কোন্দল তীব্র হচ্ছে
Next articleযশোর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বংশ পরমপরায় কাজ করে চলা কামাররা