গণহত্যার নতুন হিসাব : ইতিহাস বিকৃতি রোধে আইনও জরুরি

164

 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করে। পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো এই গণহত্যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি নিধনের সঙ্গে তুলনা করেছে অনেকে। নাৎসি বাহিনীর গণহত্যা স্মরণ করা হলেও বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়টি সেভাবে বিশ্ববাসীর মনোযোগ পায়নি বলেও মনে করা হয়। বাংলাদেশ ২৫ শে মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করছে। গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চলছে। কিন্তু দেশের ভেতরেই একটি সংঘবদ্ধচক্র একাত্তরের গণহত্যা, বিশেষ করে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অবশ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। একাত্তরের গণহত্যা এবং ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে কোনো কোনো মহল থেকে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা যে ইতিহাস বিকৃতির শামিল, তা বলাই বাহুল্য। ১৯৭১ গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সাম্প্রতিক সময়ে জরিপে পাওয়া তথ্য বলছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন বইয়ে গণহত্যার সর্বোচ্চ সংখ্যা ৯০৫ পাওয়া গেলেও এই জরিপে দেশের ১০ জেলায়ই এক হাজার ৭৫২টি গণহত্যার ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। গণহত্যার স্থানের সঙ্গে বধ্যভূমি ও গণকবর মিলিয়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় দুই হাজার ১০৭।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, এই উদ্দেশ্যে পরাজয় নিশ্চিত জেনে আত্মসমর্পণের দুই দিন আগে পরিকল্পিতভাবে দেশের বিশিষ্ট মানুষদের হত্যা করা হয়। একাত্তরের ৯টি মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সম্মুখ সমরে শহীদ হয়েছেন অনেক যোদ্ধা। নতুন নতুন গবেষণা থেকে পাওয়া যাচ্ছে নতুন তথ্য। আর ঠিক এমন সময়ই মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে। এই বিকৃতি বন্ধের জন্য ২০১৬ সালে আইন কমিশন একটি আইনের খসড়া তৈরি করেছিল। আবার ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর দ-িতদের সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। এরই মধ্যে অনেক অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে; কিন্তু সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কোনো আইন হয়নি।
ইতিহাসের বিকৃতি রোধে এসব আইন হওয়া জরুরি।

Previous articleসালমান-শাহরুখ দ্বৈরথ, মাঝখানে ক্যাটরিনা!
Next articleবদলে যাওয়া পৃথিবী, আমাদের প্রস্তুতি এবং কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা