‌‘শাহীন চাকলাদারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে গভির ষড়যন্ত্র’

189

 

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোর আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের ‘ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি বিশেষ মহল গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে’ বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।
গত ৪ এপ্রিল দৈনিক প্রথম আলোয় ‘যশোরে চাকলাদাররাই সব’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে আজ শনিবার সকালে স্থানীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রথম আলোর ওই সংবাদকে ‘ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর নিন্দা করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী রায়হান। এসময় সহ-সভাপতি খয়রাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপুসহ মহিলালীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের যেসব সম্পত্তি ও ব্যবসার কথা প্রথম আলোর সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বেশিরভাগই তারা বৈধভাবে অর্জন করেছেন নব্বই-এর দশক কিংবা তারও আগে।
শহরের চিত্রা মোড়ে শাহীন চাকলাদারের মালিকানায় নির্মীয়মাণ একটি বহুতল ভবন সম্পর্কে নেতারা বলেন, এই জায়গাটি ২০১১ সালে ৭২ লাখ টাকায় কেনা। ওই জমিতে অবস্থানকারী ছয় ব্যবসায়ীর পাওনা অর্ধকোটি টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে। তাছাড়া নির্মাণাধীন এ ভবনটিতে অর্থায়ন করছে জনতা ব্যাংক।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, একটি ‘বিশেষ মহল’ টাকার বিনিময়ে যশোর আওয়ামী লীগ ও এর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
‘বিশেষ মহল’টি কি দলের মধ্যেই রয়েছে?- এমন প্রশ্নে অ্যাডভোকেট আলী রায়হান বলেন, ‘প্রথম আলোর সংবাদে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিতকুমার নাথ ও শহরে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বুনো আসাদের বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। এ দুইজন কার সাথে ঘনিষ্ঠ আপনারা সবাই জানেন’।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শাহীন চাকলাদার ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার পরিবারের অনেকেই পাকিস্তান আমল থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্বৈরাচার, জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলন ও বিএনপির ‘আগুনসন্ত্রাস’ প্রতিরোধে তার পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় অংশ ছিল। তারা কেউই আওয়ামী লীগে উড়ে এসে জুড়ে বসেননি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রথম আলোর রিপোর্টে শাহীন চাকলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে দখলবাজি, মাদক চোরাচালানসহ নানা অভিযোগ তুললেও তার কোনো তথ্য-উপাত্ত, কারো অভিযোগ বা ঘটনা নেই। এতেই বোঝা যায় যে, পরিকল্পিতভাবে সম্মানহানি করতেই এ মনগড়া রিপোর্ট পরিবেশন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার উপস্থিত ছিলেন না।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী রায়হান বলেন, সভাপতির সম্মতিতেই জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি আসতে পারেননি।