এশিয়ায় শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য যোগাযোগ বৃদ্ধিতে জোর হাসিনার

159

 

কল্যাণ ডেস্ক : এশিয়ার দেশগুলোকে আরও শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও স্থিতিশীল করতে পারস্পরিক সেতুবন্ধন তৈরি ও যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশগুলোর জনগণের মধ্যে মতবিনিময় ও বোঝাপড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে এ অঞ্চলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে লন্ডনের গিল্ড হলে কমনওয়েলথ বিজনেস ফোরাম আয়োজিত ‘এশিয়ান লিডারস রাউন্ড টেবিল : ক্যান এশিয়া কিপ গ্রোয়িং?’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ভারতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জারিন দারুয়ালার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ এশিয়ার কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোর আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “শুধু একটা দেশের মধ্যে নয়, এটা প্রয়োজন গোটা এশিয়া অঞ্চলে।”
তিনি বলেন, “দেশগুলোতে সমৃদ্ধি ও সমতা প্রবৃদ্ধি আনবে এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা আরও শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অঞ্চল তৈরি করতে পারব।”
এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি শ্রমশক্তি ও সর্ববৃহৎ বাজার, প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদের মজুদ থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীতে বিশ্ব ছিল এশিয়ার নেতৃত্বে, ভবিষ্যতেও নেতৃত্ব দেবে এশিয়া। কারণ এশিয়ার আশাবাদী মানুষগুলো কঠোর পরশ্রমী, সহিষ্ণু ও মেধাবী।”
গত ৭০ বছরে এশিয়ার অনেক অর্জন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক অর্থনীতিবিদ ও প-িতের কাছে এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক সফলতা ‘মিরাকল’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এরপরেও এশিয়ার দেশগুলোর সতরক আশাবাদী হওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ও সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক মানুষকে কাছে আনার পাশাপাশি আলাদাও করে দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক উন্নতি সমৃদ্ধি আনার পাশাপাশি বৈষম্যও সৃষ্টি করছে বলে সতর্ক করেন শেখ হাসিনা।
সন্ত্রাস, সংঘাত ও আর্থিক অভিঘাতসহ স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে তরুণ ও নারীসহ নাগরিকদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের চেতনা ও সমন্বিত মেধা দিয়ে এশিয়ার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে।”
গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতের এশিয়াকে চালনা করতে দক্ষ জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী সহযোগিতা বিষয়ে কমনওয়েলথের ভুমিকা’ শীর্ষক অন্য একটি সেশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

Previous articleবেনাপোল সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ৩৪ বাংলাদেশি আটক
Next articleএক উইকেটেই সাকিবের অসাধারণ ডাবল!