ভোটের জন্য প্রস্তুত খুলনা

228

 

কল্যাণ ডেস্ক : ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা’ নিশ্চিতের মাধ্যমে খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোটের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী।
ভোটের আগের দিন সোমবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটার সামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের জন্য দুটি কেন্দ্রে মহড়াও হয়েছে।
শহরের সোনাডাঙ্গা এলাকার বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্র থেকে দুপুরে ভোটের সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী সাংবাদিকদের বলেন, “ইতোমধ্যে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনী মালামালও কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
“আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ সবাই মাঠ পর্যায়ে রয়েছেন। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।”
আজ সিটি করপোরেশনের নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেবে খুলনার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন ভোটার।
মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেবেন তারা। এছাড়া ৩১ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের দশটি পদে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আব্দুল খালেকের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুজ্জাম্মিল হক মেয়র পদে লড়ছেন।
ভোটার, প্রার্থী ও সমর্থকদের উদ্দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, “নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসবেন এবং নির্ভয়ে শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করবেন।”
ভোটের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ ঠেকাতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ২৩৪টি কেন্দ্র আমরা গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করছি এবং ৫৫টি কেন্দ্র সাধারণ।
“গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে থাকবেন ২২ জন করে। প্রিজাইডিং অফিসাররা ও অন্যান্য ফোর্স রাতে কেন্দ্রেই থাকবেন। এর বাইরে ভিজিলেন্স টিম রয়েছে, তারা টহল দেবে।”
বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, “যদি রাতের বেলায় কোনো কেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, কেউ যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য চেষ্টা করে, তাহলে নির্বাচন কমিশন এটা কঠোর হস্তে দমন করবে। যদি স্টেপিংয়ের ঘটনা ঘটে, প্রয়োজনে সেই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেবে।”
ক্ষমতাসীন দলের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এখনো খুলনা সিটিতে অবস্থান করছে বলে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার জন্য আমরা ইতোমধ্যে মাইকিং করেছি। ১২ তারিখ রাত ১২টার পর থেকে এই এলাকা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
“তথাপি পুলিশ প্রশাসন ও আমাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকার গেস্ট হাউসে যদি কোনো বহিরাগত থাকে, সেগুলোতে অভিযান চালানোর জন্য।”
ভোটের মালামাল সংগ্রহের সময় নিরালা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার তরফদার আবদুল আলীম বলেন, নির্বাচনের জন্য যত ধরনের মালামাল আছে-তা তারা সংগ্রহ করছেন। তার মধ্যে ব্যালট পেপার, ভোটের বাক্স, ভোটকক্ষ সাজানোর জন্য সবকিছুই আছে।
“প্রত্যেকটা কেন্দ্রে গিয়ে ভোটকক্ষ ডেকোরেট করা হবে, প্রত্যেকটা ভোটকক্ষে কে কে সহকারী প্রিজাডিং অফিসারের দায়িত্বপালন করবেন, তা বণ্টন করে দেব। আর রাত্রে আমরা সেখানে অবস্থান করব।”
ডি আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার শাহনাজ পারভীন বলেন, “ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, অমোচনীয় কালি এবং অন্য মালামাল সংগ্রহ করে প্রিজাইডিং অফিসারসহ আমরা কেন্দ্রে যাব। সেখানে আমরা প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে পরবর্তী কাজ বুঝে নেব।”
এদিকে নগরীর সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পিটিআইয়ের জসিম উদ্দিন হোস্টেলের অস্থায়ী কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটের মহড়া দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একজন পোলিং অফিসার জানান, আগের তিন দিন কেবল ভোটারদের মাধ্যমে মহড়া করা হয়েছিল। সোমবার পোলিং অফিসারদের উপস্থিতিতে ইভিএমে ভোটের মহড়া হয়েছে ।

Previous articleখুলনায় আ. লীগ ফুরফুরে, বিএনপিতে উদ্বেগ
Next article‘খুলনার ভোটে ইসি সন্তুষ্ট’