সরকার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করছে, লড়াই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে : মঞ্জু

151

 

কল্যাণ ডেস্ক : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেছেন-‘সরকার কেসিসিতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করছে। পুলিশের নেতৃত্বে রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরার ষড়যন্ত্র চলছে। আমাকে খোদ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে ।’
গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বহিরাগতদের এনে শহরের হোটেল, রেস্ট হাউজ ও আবাসিক কোয়াটারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাগ ভাগ করে রেখেছে। এমনকি পুলিশের নামেও বিভিন্ন হোটেল বুকিং দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন এসব বহিরাগতরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঢুকে নিজেরা নিজেরা সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। এরপর ভয়ে ভোটাররা কেন্দ্র ত্যাগ করলে, তারা ব্যালট কেটে বাক্সে ঢোকাবে। এভাবে নানা ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা চালিয়ে সরকার জনতার বিজয় ছিনিয়ে নিতে চায়।’ এ অপতৎপরতা রূখে দিতে তিনি জনগণকে সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী অভিযোগ করেন, ‘সরকার কেসিসিতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করছে। পুলিশের নেতৃত্বে রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরার ষড়যন্ত্র চলছে। আমাকে খোদ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।’
মঞ্জু বলেন, ‘সরকার এবং নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারে কিনা, তা দেখতেই বিএনপি কেসিসি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বিএনপি মাঠে রয়েছে। কিন্তু বিগত সাড়ে ৯ বছরে প্রমাণিত হয়েছে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। যার সর্বশেষ আঘাত সরকার এবং পুলিশের দানবীয় ও ড্রাকুলার হিংস্র চেহারায় প্রতিফলিত হয়েছে। ’
তিনি পুলিশের হিংস্র ভূমিকার ধিক্কার জানিয়ে বলেন, ‘পুলিশ এ পর্যন্ত বিএনপির ১৩৭ জন এবং শরীকদলের ১০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তবে, দলের সদস্য বাদে সমর্থকসহ এ সংখ্যা আড়াই শতাধিক। পুলিশ গ্রেফতার বাণিজ্য করছে। দলের একজন অসুস্থ নেতাকে হাতকড়া পরিয়ে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। এমনকি তার (মঞ্জুর) পরিবারও পুলিশের হিংস্রতা থেকে রেহাই পায়নি।’
বিএনপির প্রার্থী জানান, এসআই অচিন্ত্য ও বিপ্লবের নেতৃত্বে তিন গাড়ি পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী, ভাই-বোন ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে। তার ভাই কারণ জানতে চাইলে হুঙ্কার দিয়ে পুলিশ বলেছে, ‘কথা বললেই কল্লা ছিড়ে ফেলবো’। তিনি এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন- ‘আওয়ামী লীগ একটি সিটি নির্বাচন করায়ত্ত করতে কোথায় যাচ্ছে? যে কোনও মূল্যে সরকারকে বিজয়ী হতেই হবে?’ আওয়ামী লীগের হিংস্র চেহারা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই বিএনপি নির্বাচনের মাঠে থাকবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শহরে বিপুল অঙ্কের কালো টাকা ছড়িয়েছে। বিশেষ করে বস্তি ও চর এলাকায় তারা ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এভাবে একটি নির্বাচনকে পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। রোববার তাকে খালিশপুরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীরা মিছিল করেছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘এতকিছুর পরও জনতার বিজয় হয়েছে। শেষ দিনের প্রচারণায় ইশারা-ইঙ্গিতে জনতা তার পক্ষে বিপুল সমর্থন ও রায় জানিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়টি তাকে অভিভূত করেছে। নতুন করে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে পুলিশ, পেশীশক্তি আর কালো টাকা। আর বিএনপির সঙ্গে রয়েছে জনগণ।’ নাগরিক শাসন, সুশাসন, ভোটের অধিকার এবং সুন্দর শহর গড়তে তিনি ভোটারদের মঙ্গলবার (১৫ মে) সকালেই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Previous articleখুলনার ভোটে জাতীয় নির্বাচনের আবহ
Next articleচোখের জলে আরেকবার সুযোগ চাইলেন তালুকদার খালেক