খুলনার নগরপিতা নৌকার খালেক

225

 

কল্যাণ ডেস্ক : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনায় মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।
নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯শ’ ২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯শ’ ৫৬ ভোট।
তবে এখনো খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নির্বাচন কমিশন স্থাপিত অস্থায়ী ঘোষণা কেন্দ্র থেকে কোনো ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
মোট ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর একটি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন খালেক অন্যটিতে মঞ্জু।
দিনভর কয়েকটি কেন্দ্রে দখল, অনিয়ম, অভিযোগ, ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। আবার সুষ্ঠু ভোটও হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। খুলনা আ.লীগের মেয়র প্রার্থী বলেন, ভোট ভালো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী বলেন, অন্তত ৪০টি কেন্ত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
জাল ভোটের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল, দুটি কেন্দ্র এবং একটি বুথে ভোট স্থগিত করা হয়। এর বাইরে একটি কেন্দ্রের অদূরে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।
২৪ নং ওয়ার্ডের সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। নৌকা প্রতীকে সিল মারার ঘটনায় এছাড়া রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোট স্থগিত হয়।
জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে চারটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুপুরে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগে কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে।
২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বুথে স্থগিত করা হয় ভোট। সেখানেও নৌকা মার্কায় সিল মারা হচ্ছিল ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আব্দুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রেও জাল ভোট দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কলেজিয়াট স্কুলে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। অভিযোগ উঠেছে ২৫ নং ওয়ার্ডের এতিমখানা মোড়ের নূরানি মাদ্রাসায় ভোটারদের হাতে কালি দিয়ে নিজেরাই ভোট দিয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।
মঞ্জুকে ‘পাশে নিয়েই এগোতে চান’ তালুকদার খালেক :
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে এগিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, এই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সঙ্গে নিয়েই খুলনার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি।
ভোট দেওয়ায় জনগণের কাছে ঋণী উল্লেখ করে কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আগে এক দফায় খুলনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।
কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকার ফল পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্রে আসেন তালুকদার খালেক।
তিনি বলেন, “খুলনার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমি তাদের কাছে ঋণী। আমি এই ঋণ শোধ করব কাজের মাধ্যমে।”
‘অক্লান্ত পরিশ্রম’ করায় নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
পরাজিত প্রার্থীকে নিয়েই একসঙ্গে কাজ করবেন কি-না এমন প্রশ্নে সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মেয়র প্রার্থী হওয়া তালুকদার খালেক বলেন, “অবশ্যই। আমি যখন খুলনার মেয়র ছিলাম, তখন তিনি (নজরুল ইসলাম মঞ্জু) এমপি ছিলেন। সে আমার আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমরা যখন খুলনা শহরে বিভিন্ন আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, সেও সেই আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। মাঠ পর্যায়ের একজন নেতা।
“এটা আমি অস্বীকার করি না। কাজেই নির্বাচনে একজন হারবে একজন জিতবে। অতএব এই সমস্ত কিছু মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে।”

খুলনা শহরের উন্নয়নে মঞ্জুর যে কোনো ধরনের সহযোগিতা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “খুলনা শহর আমাদের। আমরা সবাই বসবাস করি। এই শহরটা যদি ভালো থাকে আমরা ভালো থাকব। আমি চেষ্টা করব, যে সমস্ত অঙ্গীকার করেছি সেগুলো বাস্তবায়ন করার।”
এবার খুলনায় ‘ভোট ডাকাতির’ নির্বাচন হয়েছে অভিযোগ করে যেসব কেন্দ্রে ‘কারচুপি হয়েছে’ সেগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার খালেক বলেন, “সকাল থেকে চারটা পর্যন্ত আমি বিভিন্ন কেন্দ্রে গেছি। উনি কোন কেন্দ্রে গেছে, আমি জানি না। আমার সঙ্গে অনেক সাংবাদিক ছিল। কোনো কেন্দ্রে আমার চোখের সামনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা একটা সাজানো নাটক।”

Previous articleবীরের বেশে শহীদ হলেন আবু সালাহ
Next articleসৈকতে আকর্ষণীয়া শানারেই দেবী