কিমের পর ট্রাম্পও সিঙ্গাপুরে

178

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠক করতে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার সন্ধ্যায় ট্রাম্পকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সিঙ্গাপুরের পায়া লেবার বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে।
কানাডা থেকে ২০ ঘণ্টা ভ্রমণ করে সিঙ্গাপুরে যান ট্রাম্প। বিমান ঘাঁটিতে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান ট্রাম্পকে স্বাগত জানান।
ট্রাম্পের পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগে সিঙ্গাপুর পৌঁছান কিম।
কিম চায়না এয়ারলাইন্সের একটি বিমান করে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে যান। তার পরনে ট্রেডমার্ক মাও স্যুট ছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এটা রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে কিমের সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালাকৃষ্ণান বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপে ট্রাম্প-কিমের ঐতিহাসিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গত ১৮ মাসে উত্তরের শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার সম্পর্কের উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। প্রথম দিকে একে অপরকে চূড়ান্ত অপমান করে যুদ্ধের হুমকি দিলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুইজনের মধ্যে উষ্ণতার আবহ গড়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার মুখোমুখি সাক্ষাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সানতোসায় শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে কিম ও ট্রাম্প আলাদাভাবে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটলেই দেশটির ওপর আরোপিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কার্যক্রম শুরু হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিম ম্যাটিস।
এপ্রিলে দুই কোরিয়ার শীর্ষ সম্মেলনে কিম ও মুন কোরীয় উপদ্বীপকে ‘অ-পারমাণবিকীকরণের’ ব্যাপারে সম্মত হয়েছিলেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করলেও কোরীয় অঞ্চলে অন্য দেশগুলো অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পথে না হাঁটলে পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক অস্ত্র বিসর্জনে রাজি হবে না। এ শর্তে যুক্তরাষ্ট্রকেও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তার সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিতে হবে, ওয়াশিংটন যাতে রাজি হবে না বলেও অনুমান তাদের।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে রাজি হলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় দেশটির থমকে থাকা অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়তা করবে তারা।
যদিও এ বৈঠকেই পারমাণবিক বিষয়ে সমঝোতা হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া; এবারের বৈঠক ওই প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার এবারের বৈঠকে দুই কোরিয়ার মধ্যে ‘শান্তিচুক্তি’র বিষয়টি প্রাধান্য পাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
১৯৫০-৫৩ সাল পর্যন্ত দুই কোরিয়ার মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শেষ হয়নি, দুই পক্ষের মধ্যে এখনও শুধু যুদ্ধবিরতি চলছে। এপ্রিলে মুনের সঙ্গে বৈঠকে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দুই কোরিয়ার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন কিম।
উত্তরের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকে কোরীয় যুদ্ধ বিষয়ে ‘শান্তিচুক্তি’ স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পও। একে বৈঠকের ‘সহজ অংশ’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।
মনমতো না হলে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিপরীতে ঠিকঠাক মতো বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে কিমের জন্য থাকছে হোয়াইট হাউসের আমন্ত্রণ, বলেছেন ট্রাম্প।

Previous articleজ্যাকুলিনের চোখ আর কখনো ঠিক হবে না?
Next articleটাইগারদের যেখানে হারিয়েই দিলেন টাইগ্রেসরা!