তফসিলের আগে গণগ্রেফতারে ষড়যন্ত্র দেখছে বিএনপি

141

 

কল্যাণ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সক্রিয় কোনো কর্মসূচি নেই। কর্মসূচি নিয়ে নেই কোনো হুংকার। তারপরও কখনও ঘরোয়া কর্মসূচি আবার কখনো বা মানববন্ধেনের মতো ‘নিরীহ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীকে আটকের বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন দলটির নেতারা।
তাদের ভাষ্য, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে হঠাৎ করেই পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে আটক করা শুরু করেছে। এটা বুঝতে বাকি নেই, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে সরকার।
গেল ঈদুল আজহার পর থেকে সারাদেশে প্রায় এক লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শত শত নেতাকর্মীকে ‘ভৌতিক’ মামলায় আটক করা হচ্ছে বলে দাবি বিএনপির।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সারাদেশে লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সরকার ভৌতিক মামলা দিয়েছে। ১২ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রামেগঞ্জেও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরে ঘুমাতে পারছেন না। এভাবে মিথ্যা মামলা, অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-খুন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।’
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন সম্পর্কে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আজকের মানববন্ধন ছিল নিরীহ কর্মসূচি। পুলিশ ওঁৎ পেতে ছিল বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করার জন্য। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য এসে পৌঁছেছে, তাতে দুই শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এখনো সব তথ্য আসেনি।
হঠাৎ করেই বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন গ্রেফতারকে ভিন্ন চোখে দেখছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ।
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার অত্যন্ত আতঙ্কিত। তারা দেখছে সারাদেশে তাদের কোনো জনপ্রিয়তা নেই, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে দুর্বল করার জন্য এবং নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতেই এ সকল ষড়যন্ত্র।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত জেলে। মূল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। এই যে ধরপাকড়, এসব কিছু খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্য। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরু হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় তার বেড়ে গেছে। আমার মনে হচ্ছে, ভোটের রাজনীতি করার উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারের আর নেই।’
তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারির মতোই একতরফা নির্বাচন করার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে তারা বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার শুরু করেছে। সোমবার কর্মসূচি (বিএনপির মানববন্ধন) নির্ধারিত সময়ের ১ মিনিট আগেই শেষ হয়েছে। তারপরও কেন আমাদের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ নেতাকর্মীদের আটক করা হয়ছে?’
তিনি আরও বলেন, এটা শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশে সরকার পরিকল্পিতভাবে গণগ্রেফতার শুরু করেছে। যাতে বিএনপি আগামী নির্বাচনে না যায়। তাছাড়া বিএনপি নির্বাচনে গেলেও যাতে নেতাকর্মীরা জনগণের কাছে যেতে না পারে। এটা তাদের লক্ষ্য।’
উল্লেখ্য, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নভেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হতে পারে।

Previous articleপ্রিয়াঙ্কার সাথে যেভাবে প্রেমের শুরু…
Next articleদুধের টাকা মেলেনি, সন্তানকে ‘লবণ খাইয়ে হত্যা’