আনন্দ স্কুল জীবননগরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

409

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে প্রায় ৪লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার জীবননগর সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, জীবননগর উপজেলার ২৩টি আনন্দ স্কুলের ৩৩৫ জন শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু ১ হাজার ৫২০ টাকা হারে ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ২শ টাকা সরকারিভাবে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলন হয়। শিক্ষার্থীরা মাথাপিছু ১৫২০ টাকা পেলেও ব্যাংকের বাইরে এসে শিক্ষকদেরকে ১ হাজার করে টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। এভাবে আনন্দ স্কুলের শিক্ষকদের যোগসাজসে শিক্ষার্থীদেরকে দেওয়া হয় ৫২০ টাকা হারে। এভাবে শিক্ষকরা হাতিয়ে নিলেন শিক্ষর্থীদের ৪লক্ষ ২ হাজার টাকা।
অভিযোগে আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী বুলবুলি খাতুন জানায়, ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৫২০ টাকা আমাদের হাতে দিয়ে দেয় বাইরে এসে কাকুলী আপা বলে তোমরা ৫২০টাকা রেখে ১হাজার টাকা আমার কাছে দিয়ে দাও এগুলো তোমাদের খাওয়া দাওয়া ও যাতায়াত ভাড়া ও সরকারি খরচ দিতে হবে। এই বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায় আপা। আর বলে এগুলো কাউকে বলার দরকার নাই।
একই অভিযোগ করে আর এক ছাত্র বলে, নিলুফা আপা আমাদের সকলকে ডেকে বলে কেউ টাকা নিয়ে চলে যাবা না। সবাই আমার সাথে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আমার সাথে দেখা করবে। তোমাদের টাকার হিসাব গুলো করতে হবে। এই বলে তিনি আমাদের হাতে ৫২০ টাকা দিয়ে দেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শিক্ষকরা প্রভাবিত করছেন। কাশিপুর আনন্দ স্কুলের শিক্ষক কাকুলী ও নিলুফা ইয়াসমিনের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আনন্দ স্কুলের টিসি শাহানারা খাতুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি তবে বিষয়টি যদি সত্য হয় তা হলে যে সমস্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জীবননগর সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আরিফুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে উপজেলায় ২৩টি আনন্দ স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে ১হাজার ৫২০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে আনান্দ স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১হাজার টাকা করে কেটে রেখেছে। এ বিষয়টি আমি শোনা মাত্র শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। তা ছাড়া ব্যাংক থেকে টাকা দেওয়ার সময় আমরা শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখে টাকা দিয়েছি। ব্যাংক থেকে কোনো শিক্ষার্থীদের টাকা কম দেওয়া হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমি শুনেছি তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে শিক্ষকদের এহেন কাণ্ড দেখে এলাকার সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছেন।

Previous articleবিএনপি থেকে যেসব তারকা মনোনয়ন পত্র কিনেছেন
Next articleজীবননগরে ট্রাক ভিড়িয়ে অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট