বাংলাদেশের চাই ‘৮ উইকেট’, জিম্বাবুয়ের ৩৬৭ রান

170

ক্রীড়া ডেস্ক : ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান সংগ্রহ করেছে জিম্বাবুয়ে। জিততে হলে পঞ্চম দিনে আরও ৩৬৭ রান করতে হবে সফরকারীদের। আর বাংলাদেশ চাই ৮ উইকেট। তবে জিম্বাবুয়ের ইনজুরি আক্রান্ত টেন্ডাই চাতারা ব্যাটিং না করতে পারলে ৭ উইকেট তুলে নিতে পারলেই জয় নিশ্চিত হবে টাইগারদের। আপাতত ক্রিজে থাকা প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ব্র্যান্ডন টেইলর ও শেন উইলিয়ামস বাঁধা পার করাই প্রথম লক্ষ্য হবে তাইজুল-মিরাজদের।
দিনের শেষ সেশনে ৪৪৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বেশ জাঁকিয়ে বসেন দুই জিম্বাবুইয়ান ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ব্রায়ান চারি। তবে জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ২৩তম ওভারের শেষ বলে ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে (২৫) মুমিনুলের ক্যাচ বানিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ।
দলীয় ৬৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ২৬ ওভারে বল করতে এসে চতুর্থ বলে আরেক জিম্বাবুয়িয়ান ওপেনার চারিকে (৪৩) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছিলেন চারি, কিন্তু থার্ড আম্পায়ারও রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ’র দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির উপর ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৮ বছর পর সেঞ্চুরির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১২২ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান এই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। যেখানে জিম্বাবুয়েকে ৪৪৩ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে টাইগাররা।
অন্য ব্যাটসম্যান মেহেদি হাসান মিরাজ ৩৪ বলে ২টি চারে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও লিটন দাশ। কাইল জারভিসের করা ওভারের প্রথম বলে মাভুতাকে ইমরুল ক্যাচ দেওয়ার পর তৃতীয় ওভারে বোল্ড হয়ে ফেরেন লিটন।
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হকও টিকতে পারেননি। ট্রিপানোর বলে ফেরেন তিনি। আর ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম ব্যক্তিগত ৭ রানে ডোনাল্ড ট্রিপানোর বলে বিদায় নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২৫ রানে চার টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ। তবে মোহাম্মদ মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। দীর্ঘ ১০ ইনিংস পর ফিফটির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
অভিষেক টেস্টে হাফসেঞ্চুরির দেখা পান মোহাম্মদ মিঠুন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০ বলে ৪টি চারের সাহায্যে পঞ্চাশ করেন তিনি। যদিও প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাফসেঞ্চুরির পর সিকান্দার রাজার বলে ফেরেন মিঠুন (৬৭)। এই জুটি থেকে ১১৮ রান আসে।
আরিফুল হক অবশ্য ক্রিজে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৫ রানে শেন উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হন তিনি।
এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয় ইনিংসে ফলোঅন না করিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। যদিও তৃতীয় দিনের শেষে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস শেষ হলে ধারণা করা হয়েছিল সফরকারীদের ফের ব্যাটিং করাবে টাইগাররা।
বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরি (২১৯) ও মুমিনুল হকের সেঞ্চুরিতে (১৬১) ৭ উইকেট হারানোর পর ৫২২ রানের বড় সংগ্রহের পর ইনিংস ঘোষণা করে।
জবাবে ব্র্যান্ডন টেইলরের সেঞ্চুরি (১১০) স্বত্ত্বেও ৩০৪ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। ফলে ২১৮ রানে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও তার দল।
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে টানা ৩ ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

Previous articleমনোনয়ন নেবেন, মনোনয়ন?
Next articleএই গ্রামের সব পুরুষই দু’বার বিয়ে করেন