ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উদ্বেগ মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে পদক্ষেপ নিন

141

তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যগুলোর একটি প্রধান গন্তব্য ইউরোপ। যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা বাতিল হলেও ইউরোপের বাজারে এখনো বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে। এভরিথিং বাট আর্মস বা ইবিএ স্কিমের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে বাংলাদেশ অস্ত্র ছাড়া সব পণ্য রপ্তানিতে এই সুবিধা পেয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই সুবিধা বাংলাদেশকে দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্ত্রাসবার্গে অনুষ্ঠিত সভায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা আলোচনা করেন। অনেক সদস্য বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশকে দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। অনেক সদস্য বাংলাদেশে ডিজিটাল আইনের অপব্যবহার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বাক্স্বাধীনতা সংকোচনসহ নানা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, বিশেষ করে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে চলার যে ধারা সূচিত হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়গুলো নিয়ে অনেকেই বিতর্ক করতে পারে। কিন্তু একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই যে উন্নত জাতি হতে হলে সে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অবশ্যই উন্নত হতে হবে। আইনের শাসন থাকতে হবে। গণতন্ত্র সুসংহত হতে হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। এটা কোনো বাজারে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয় নয়, নিজেদের প্রয়োজনেই এসব ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা আমাদের জন্য জরুরি কিছু বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন। জরুরি ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো মোকাবেলা করে প্রয়োজনীয় উন্নতিসাধনে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপের ইবিএ স্কিমে প্রাপ্ত সুবিধা অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সুবিধাগুলো যত দিন সম্ভব রক্ষা করতে হবে। তারা পোশাকশিল্পে শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় তদারকির যে কাজ করে যাচ্ছে, তা বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির গতি আরো ত্বরান্বিত করতে হবে। বিদ্যমান বাজারের পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার খুঁজতে হবে। রপ্তানি বহুমুখী করার ওপর জোর দিতে হবে। আর উন্নত দেশ হতে হলে গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনগণের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ নানা দিকে অবশ্যই আমাদের উন্নতি করতে হবে। সেই লক্ষ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্বেগের বিষয়গুলো আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই বিবেচনায় নিতে পারি।

Previous articleসাকিবের সঙ্গে ফিরলেন সৌম্য ও নাঈম
Next articleহাসিনা : এক ফিনিক্স পাখির গল্প