কেন্দ্র সরব এলাকা নীরব কে হচ্ছেন কালীগঞ্জের নৌকার মাঝি?

231


কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সরব হয়ে উঠলেও অনেকটা নীরবতা বিরাজ করছে সংসদীয় এলাকাগুলোতে।

বর্তমানে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় মধ্যে দিয়ে সময় পার করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সেই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও কঠোর সমর্থকরা অনেকটা নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? এ নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে চলছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ তিন ভাবে বিভক্ত। আওয়ামী লীগের এক পক্ষের নেতৃত্বে দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান। আর তৃতীয় পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সাবেক পৌর মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য মোস্তাফিজু রহমান বিজু। নির্বাচন পূর্বে আওয়ামী লীগের এ তিন গ্রুপের কোন্দল বিরাজমান থাকলেও এ আসন থেকে এবার দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ১০ জন প্রার্থী।
যারা মনোনয়ন ফরম তুলেছেন তারা হচ্ছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান এমপি আনোয়রারুল আজীম আনার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান, সাবেক পৌর মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু, কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা লীগ সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন বাবু, কালীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. রাশেদ শমসের, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার খা, কৃষক লীগ নেতা আমিনুর রহমান তপু ও আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম মিন্টু।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপরোক্ত ১০ প্রার্থী মনোনয়ন তুললেও মূলত বর্তমান ও সাবেক এমপির নেতাকর্মী এবং সমর্থকের মধ্যে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের নেতা মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জানান দিলেও আওয়ামী লীগের দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এখনো কোনো মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেননি।
বিগত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে কালীগঞ্জ আসন থেকে আওয়ামী লীগের এত বেশিসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন কেউ তুলেননি।
একাধিক সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, দীর্ঘদিনেও অসহায় নির্যাতিত ও প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর না নেওয়া, দলীয় কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ও মতো প্রকাশের সুযোগ না দেওয়া, কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে নিজেকে তুলে ধরাসহ বহুবিধ কারণে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
এ ছাড়া উভয় দলের মধ্যে বিন্দু বিন্দু অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে বৃহৎ কোন্দলের সৃষ্টি হয়েছে। এসব কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এত বেশিসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন তুলেছেন বলে তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর জানিয়েছেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই তারা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
বর্তমানে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করায় কেন্দ্র সরব হয়ে উঠলেও সংসদীয় আসনে নীরবতা বিরাজ করছে।

Previous articleযশোরের শার্শায় হুন্ডির ৫ লাখ টাকাসহ আটক ২
Next articleশার্শার রাজনৈতিক অঙ্গণ এখন নীরব শার্শায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে