বুড়িগঙ্গায় পাওয়া লাশটি কেশবপুরের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ‘আবুর’

205

কল্যাণ রিপোর্ট : ঢাকায় বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার লাশটি যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুবক্কর আবুর। তার ভাগ্নে আশিকুজ্জামান মরদেহ শনাক্ত করে যশোরের সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গেল সপ্তাহে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিতে আবু ঢাকা গিয়েছিলেন। বিজয়নগর এলাকার একটি হোটেলের সামনে থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় একটি মরদেহ মেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেলিঘাট আশ্মিনগেট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে আজ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে নৌকার ওপর শোয়ানো মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ দেখা যাচ্ছে। পোস্টে লেখা হয়, ‘অজ্ঞাতনামা মুসলিম পুরুষ, বয়স অনুমান ৫০ বছর এর মৃতদেহ বুড়িগঙ্গা নদীতে পাওয়া গিয়াছে, পরনে সাদা পাজামা, সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি। পরিচয় পাওয়া গেলে যোগাযোগে- ০১৭৬৯-৬৯০২৮৫, ০১৯৯০-০৮৮০১১।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবি আসার পর তা অনেকের দৃষ্টিতে আসে। বিএনপি নেতাকর্মীরা সন্দেহ করতে থাকেন, গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীতে নিখোঁজ যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেশবপুরের মজিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর আবুর মরদেহ এটি।
সন্ধ্যা নাগাদ এই খবর কেশবপুর, যশোর ও ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু আজ (গতকাল) সন্ধ্যায় বলেন, ১৮ বা ১৯ তারিখে আবু বক্কর আবু নিখোঁজ হন। কিন্তু বুড়িগঙ্গায় পাওয়া মরদেহটি তার কি-না এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘যতদূর মনে হচ্ছে, এটি আবু চাচার মরদেহ।’ কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ এবং কেশবপুরের সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস মিডফোর্ড হাসপাতাল মর্গের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জানিয়ে অমিত বলেন, তারা গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করতে পারবেন।
রাত নয়টায় কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমি মিডফোর্ডের উদ্দেশে রাস্তায়। পুরান ঢাকায় পৌঁছাতে আরো খানিকটা সময় লাগবে। সেখানে গিয়ে নিশ্চিত হতে পারবো লাশটি আবু ভাইয়ের কি-না।’
সঙ্গে কথা বলার সময় আবুল হোসেন আজাদ ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কাঁদছিলেন। তারা উভয়েই বলেন, আবু ভাইয়ের এইভাবে মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। এটা দলের জন্য বিরাট ক্ষতি।
যশোর নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম রাতে জানান, তিনিও আবু বক্কর আবুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে শুনছেন। তবে এই তথ্য নিশ্চিত করতে পারেননি যশোরের সাবেক মেয়র মারুফ।
রাত নয়টার কিছু সময় পর ভাগ্নে আশিকুজ্জামান যশোরের সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন, মরদেহটি আবু বক্কর আবুর। পরনের পোশাক দেখে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান। এই খবর ইতিমধ্যে তিনি কেশবপুরে আত্মীয়-স্বজনদের জানিয়েছেন বলেও জানান।
আবু বক্কর আবু যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি টানা ২০-২২ বছর কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিরকুমার আবু ছিলেন তার এলাকায় ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়। মজিদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানও তিনি। এর আগেও তিনি ওই ইউনিয়নে তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপি নেতা অমিত জানান, যেদিন খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের নির্ধারিত দিন ছিল, তার আগের দিন সন্ধ্যায় বিজয়নগরের একটি আবাসিক হোটেলের নীচ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা আবু বক্কর আবুকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে মনোনয়ন বোর্ড শুরু হওয়ার আগে বিএনপি মহাসচিব উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের যে চিত্র নির্বাচন কমিশনে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে, সেখানে আবু বক্কর আবুর অপহরণের বিষয়টিও ছিল।
আবু বক্কর আবু যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় ঢাকা গিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন অমিত।
বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, আবুর স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ বাবদ বিপুল টাকা দাবি করে অপহরণকারী চক্রটি। তারা অন্তত এক লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েও নিয়েছে। তা সত্ত্বেও ছেড়ে না দিয়ে মেরে ফেলা হলো আবুকে।

Previous articleপালাবদলের প্রস্তুতি
Next articleকাদের সিদ্দিকীর ইতিহাসের সমাপ্তি