মেয়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের স্ত্রী

216


নড়াইল প্রতিনিধি : মেয়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা (৮০)।
বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পর ৪র্থ জানাযা শেষে গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের ধুড়িয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে ফজিলাতুন্নেছার লাশবাহী গাড়িটি শহরের কুড়িগ্রামের নিজ বাসভবনের সামনে পৌঁছায়। এসময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বাদ আসর নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোব মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযা নামাযের পূর্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন নড়াইল জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল সদর) শরফুদ্দিন ও মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ।
দ্বিতীয় জানাযায় নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরফুদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাকাহীদ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিম উদ্দিন রুবেল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট এস এ মতিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, মাশরাফি বিন মর্তুজার বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
বক্তব্য দেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের সন্তান শেখ মোস্তফা কামাল।
তিনি তার মায়ের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
দ্বিতীয় জানাযা শেষে মহান বীরের জন্মস্থান নূর মোহাম্মদ নগরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কমপ্লেক্স চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফজিলাতুন্নেছার স্মৃতি বিজড়িত ধুড়িয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এলাকাবাসী অংশগ্রহণে ৪র্থ জানাযা শেষে মেয়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
এর আগে বিজিবির সদর দপ্তরে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রামের বাড়িটি বেশ কয়েক বছর আগেই একটি মাদ্রাসা দান করে যান ফজিলাতুন্নেছা। সেখানে একটি মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছে।
ফজিলাতুন্নেছা বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে, নাতি, নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।
এছাড়া নূর মোহাম্মদ শেখের প্রথম স্ত্রীর একটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছার ঘরে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ফজিলাতুন্নেছা ডায়াবেটিস, কোমরে ব্যথা ও বার্ধক্যজণিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৭ অক্টোবর ঢাকায় বিজিবির পিলখানা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার ঢাকা সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ফজিলাতুন্নেছাকে। সেখানে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় মারা যান তিনি।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের সাথে ফজিলাতুন্নেছার বিয়ে হয় ১৯৬৪ সালে। বিয়ের ৭ বছর পর স্বামী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শহীদ হওয়ার পর স্বামীর স্মৃতি স্বরুপ দুটি কন্যা সন্তান নিয়ে বাকী জীবন কাটিয়ে দেন।

Previous article৭০ পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় ঐক্যফ্রন্ট
Next articleচুয়াডাঙ্গায় শ্যালিকা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দুলাভাইয়ের যাবজ্জীবন