ক্ষমতার ভারসাম্য রেখে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার আসছে আগামী সপ্তাহে

496

কল্যাণ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠনকালীন ১১ লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে ইশতেহার প্রণয়নে কাজ করছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইশতেহারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতাসহ ক্ষমতা কাঠামোতে সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর ইশতেহার নিয়ে সেগুলো বিবেচনা রেখে চূড়ান্ত ইশতেহার প্রণয়ন করা হবে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের ছয় সদস্যের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি প্রথম বৈঠক করেছে। দুয়েকদিনের মধ্যেই এই কমিটি আবারও বৈঠক করবে। তবে সব মিলিয়ে ইশতেহার চূড়ান্ত করতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।
সূত্রগুলো বলছে, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহার এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। আত্মপ্রকাশের সময় ঐক্যফ্রন্ট যে ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল, সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে ওই কমিটি। সেখান থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসবে ইশতেহারে।
সূত্রগুলো আরও বলছে, ঐক্যফ্রন্টের যে শরিক দলগুলো রয়েছে, তাদের দলীয় নির্বাচনি ইশতেহারগুলোও চাওয়া হয়েছে। ইশতেহারগুলো হাতে পেলে সেগুলোও পর্যালোচনা করবে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটি। এসব ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাগুলোও স্থান পাবে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহ বলেন, ইশতেহার প্রণয়নের কাজ চলছে। এটা তো একদিনে করার কাজ না। একটু সময় তো লাগবেই। এ কাজ শেষ করতে সাত দিনেরও বেশি যেতে পারে বলে জানান তিনি।
ইশতেহারে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে শফিক উল্লাহ বলেন, আমাদের ১১টি যে লক্ষ্য ঘোষণা করা আছে, সেগুলোর আলোকেই ইশতেহার তৈরির কাজ চলছে। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রয়োজন। সেই বিষয়গুলোই প্রধান্য পাবে ইশতেহারে। তাছাড়া শরিক দলগুলোর ইশতেহারের প্রস্তাবনাগুলোও মাথায় রাখা হবে।
ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য ছাড়াও গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য নির্বাচন কমিশনকেও স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে কাজ করতে দিতে হবে স্বাধীনভাবে, সেখানে সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের সুযোগ কমাতে হবে। এছাড়া প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মতো বিষয়গুলোও ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে উঠে আসবে।

Previous articleআবু হত্যা : দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলবে ইসি
Next articleবিএনপির কথামতো প্রশাসনে রদবদল নয়, ইসিকে ১৪ দল