বিএনপির কথামতো প্রশাসনে রদবদল নয়, ইসিকে ১৪ দল

162

 

কল্যাণ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কথামতো যেন প্রশাসনে রদবদল না হয়, সে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।
গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রশাসনের ৭০ কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবির পরদিন শুক্রবার ১৪ দল নির্বাচন কমিশনে এসে এ দাবি জানায়।
ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৭০ কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবি জানায় ঐক্যফ্রন্ট।
নির্বাচন ভবনে ১৪ দলের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের দাবি অনুযায়ী প্রশাসনে রদবদল না করার পাল্টা দাবি জানায়।
সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তারা একদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার প্রতিদিন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মনগড়া ও বানোয়াট অভিযোগ করে সংশ্লিষ্টদের মনোবল ভেঙে দেয়ার অপচেষ্টা করছে যাতে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে না পারে।
তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বক্তব্য রাখছে অথচ ঐক্যফ্রন্টের চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন একজন আইনজ্ঞ হয়েও এ বিষয়ে কিছুই বলছেন না। বিএনপি যে দাবিগুলো উত্থাপন করছে সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিশীল করে তারা তাদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। নির্বাচনের পরে যাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোন ধরনের নির্যাতন না হয় এবং নির্বাচনে তারা যাতে নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিতের আহবান জানিয়েছি।
বিএনপি মহাসচিব কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের কথা বলে নির্বাচনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন দিলীপ বড়ুয়া।
সাবেক এ শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের রদবদল সম্পর্কিত বিএনপির দাবিটি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। সুনির্দিষ্ট অভিযোগছাড়া বিএনপির কথামতো যেন এ ধরনের রদবদল করা না হয়; আমরা সে দাবি রেখেছি।
জোটের অপর নেতা শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। এ ব্যাপারে কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।
কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে ১৪ দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোটকে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন বহিঃর্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য কর্তব্য। অথচ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন একজন দণ্ডিত ও পলাতক আসামি হওয়ার পরও তিনি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামি জাতীয় সংসদের সদস্য পদ প্রার্থীদের বাছাই করতে পারেন না।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের প্রতি চরম অবমাননা এবং রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তারেক রহমানের এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ১৪ দলের চিঠিতে।
প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন আওয়াম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা নাদের চৌধুরী প্রমুখ।

Previous articleক্ষমতার ভারসাম্য রেখে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার আসছে আগামী সপ্তাহে
Next articleভোটের পরে সংখ্যা লঘুদের ওপর আর হামলা করতে দেওয়া হবে না : শাহরিয়ার কবির