ভোটের পরে সংখ্যা লঘুদের ওপর আর হামলা করতে দেওয়া হবে না : শাহরিয়ার কবির

144

 


কল্যাণ রিপোর্ট : ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির যশোরের অভয়নগরের চাপাতলা মালোপাড়ার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি হবে না, এটা আমাদের অঙ্গীকার। মালোপাড়ার স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থায়ী হবে। এ বিষয়ে খুলনায় পুলিশের ডিআইজির সাথে কথা হয়েছে। এছাড়া আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঝুকিপূর্ণ সকল এলাকায় নির্বাচনকালে ফাঁড়ি বসাতে হবে।
শুক্রবার সকালে চাপাতলার মালোপাড়া মন্দিরের সামনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অভিযাত্রা শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, আমরা ৯৬টি আসনকে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে বলেছি, এ আসনগুলোতে ১২ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশ হিন্দু ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি এলাকা ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সে সম্স্ত এলাকায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে। প্রশাসনের একার পক্ষে নির্বাচনী এ উন্মাদনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আমরা যতক্ষণ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করতে না পারছি সংখ্যালঘুর প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
২৭ বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কথা উল্লেখ করে শাহরিয়ার বলেন, প্রস্তাব দিয়েছি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করতে হবে। ধর্ষিতা নারীকে আদালতে দাঁড়াতে হবে না, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দাঁড়িয়ে ভিকটিমের জবানবন্দি যথেষ্ট। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা এ আহ্বান জানিয়েছি।
তিনি বলেন,সংখ্যালঘু কমিশনের কথা বলেছি। তাদের কল্যাণের জন্য সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রণালয় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের জন্য যারা দায়ি তাদের বিচার না হবে ততক্ষণ এ অপরাধ থামবে না। ১৪ দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিমকে বলেছি, জামায়াত-বিএনপিকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। বিপর্যয় ঘটবে যদি সেই সব নেতাদের মনোনয়ন দেন যারা হাইব্রিড ও অন্য দল থেকে এসেছে। অনেক এমপি আছে যারা সাম্প্রদায়িক নির্যাতন করে।
স্থানীয় প্রেমবাগ ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাদিয়া আফরিন, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বেলায়েত হোসেন, পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য প্রভাষক দেব কুমার বিশ্বাস, পূজা পরিষদের আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মন্টু ঘোষ, মালোপাড়াবাসীর পক্ষে বিশ্বজিৎ সরকার ও মালোপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি শেখর কুমার বর্মণ। ২০০১ সালের নির্বাচনকালে সিরাজগঞ্জে সহিংসতার শিকার পূর্ণিমা শীলও এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন-অর-রশিদ।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি যশোরের মণিরামপুরে নির্যাতিত রূপালী ও মনিমালাকে আর্থিক সহায়তা করেন।

Previous articleবিএনপির কথামতো প্রশাসনে রদবদল নয়, ইসিকে ১৪ দল
Next articleএমপি রণজিৎকে মনোনয়ন না দেয়ার দাবিতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বরাবর স্মারকলিপি