হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ভালবাসায় বিদায় নিলেন জনপ্রিয় নেতা আবু

277
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও চার মেয়াদে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বকর আবুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে কেশবপুর পাবলিক ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদাহ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাকে দাফন করা হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নামাজে জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে কেশবপুরে আবু বকর আবুর লাশ পৌঁছায়। সাড়ে ১২টার দিকে মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয় লাশ। এরপর নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তার আত্মীয় স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আবু বকর আবুকে শেষ বারের মত দেখার জন্য ৪ কিলোমিটার দূর শিকারপুর গ্রাম থেকে আসেন জামেলা বেগম।
তিনি বলেন, আবু চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে আমি আমার সন্তান হারানো শোক পেয়েছি।
মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মনোজ তরফদার বলেন, আবু বকর আবু চেয়ারম্যান হিসেবে দলমতে ঊর্ধ্বে অসাম্প্রদায়িক চেতনার একজন মানুষ ছিলেন।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ছবি দেখে পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় কেশবপুর শহরে পাবলিক ময়দানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতে জানাজার পূর্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এসময় বক্তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আবু বকর আবুর খুনিদের বিচারের দাবী করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু। এছাড়াও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মী, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
জানাজা শেষে মরহুমের কফিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিন পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।
স্থানীয়রা বলেন, রাজনীতি ও সামাজিক কাজের কারণে জীবনে বিয়েও করেননি আবু। এমন নেতা আর এই এলাকায় হবে না।


মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মনোজ তরফদার বলেন, আবু বকর আবু চেয়ারম্যান হিসেবে দলমতের ঊর্ধ্ব অসাম্প্রদায়িক চেতনার একজন মানুষ ছিলেন।
এরপর বাগদহ গ্রামে তার তৈরি মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় বার জানাজা শেষে মাদ্রাসা সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাকে দাফন করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবুসহ আটজন প্রার্থী ১২ নভেম্বর ফরম কেনেন। ১৯ নভেম্বর সাক্ষাৎকার বোর্ডে অংশ নেওয়ার জন্য পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলে চতুর্থতলায় ৪১৩ নম্বর রুমে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর একটি মোবাইল ফোন থেকে কল করে কেশবপুরে তার এক ভাগনের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এরপর আবু বকরকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় ১৯ নভেম্বর সকালে বিকাশে মাধ্যমে দেড়লাখ টাকা পরিশোধ করেন পরিবারের সদস্যরা। একটু পর ওই চক্রটি আরও ফোন করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে আবারও ২০হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তারপর থেকে ওই চক্রের সব মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে।
তারপর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন তেলঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশ উদ্ধার করে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠান। সেখানে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আবু বকর আবুর মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভাতিজা হুমায়ূন কবির।

১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই আবু বকর আবু এই দলের রাজনীতিতে জড়িত। ব্যক্তিগত জীবনে আবু বকর আবু বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। পুরো সময় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কাটিয়েছেন। তিনি প্রায় দেড় যুগ ধরে কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং মজিদপুর ইউপির চার মেয়াদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

Previous articleগণভবনের সামনে প্রয়াত খান টিপু সুলতানের স্ত্রী জেসমিনের সমর্থকদের শ্লোগান
Next article‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’: আবু হত্যা প্রসঙ্গে কাদের