নির্বাচনী ইশতেহার # বাস্তবায়নযোগ্য অঙ্গীকার দেখতে চাই

177

প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ততার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো এখন কাজ করছে নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে। আসন্ন নির্বাচনে কী কী অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের সামনে দাঁড়াবে, তারই তালিকা চূড়ান্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় নির্বাচনী ইশতেহার। এবারের নির্বাচন শুধু দলের সঙ্গে দলের ভোটের লড়াই নয়, জোটের সঙ্গে জোটের লড়াইও বটে। কাজেই প্রতিটি দল নিজেদের মতো করে যেমন একটি নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করবে, তেমনি জোটগতভাবে একটি ইশতেহারও থাকতে পারে।
প্রতিটি নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলো একটি ইশতেহার তৈরি করে, যেখানে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর দেশ ও জাতির জন্য সরকার কী কী করবে, তার একটি আগাম অঙ্গীকার থাকে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে শুধু অঙ্গীকার করলেই হবে না, সেই অঙ্গীকার পূরণে কতটুকু সাফল্য অর্জন করা যাবে, সেটাই মূল বিবেচনার বিষয় হওয়া উচিত। বাংলাদেশ আজ বিশ্বজুড়ে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হয়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে, দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতু। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার অনেক কাজ করেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বছরের শুরুর দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে বই পৌঁছে যাচ্ছে। আজকের দিনের বাস্তবতায় যেকোনো নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করার আগে খুঁজে বের করতে হবে ত্রুটি ও বিচ্যুতির জায়গাগুলো। কোথায় কোথায় কোন কোন বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে, সেই ঘাটতি পূরণে কাজ করতে হবে। উন্নয়নের রোল মডেল হওয়ার পরও বাংলাদেশের অনেক অর্জন এখনো বাকি রয়ে গেছে। আবার লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে অনেক বাধাও। এসব বিবেচনায় রেখেই ইশতেহার তৈরি করার প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। শুধু গালভরা কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করলে তা অনেকাংশেই বাগাড়ম্বর হয়ে যাবে। বাস্তবায়নযোগ্য কিছু গঠনমূলক বিষয় নির্বাচনী ইশতেহারে সন্নিবেশন করতে হবে। দেশের মানুষকে অযথা কোনো আশার বাণী শুনিয়ে লাভ নেই। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা যাচাই করে নিতে জানে। এসব বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
আমরা মনে করি, আগামী দিনের নাগরিকদের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকা দরকার। তরুণদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির কৌশলপত্র সংযুক্ত হোক সব রাজনৈতিক দল ও জোটের নির্বাচনী ইশতেহারে। জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, নির্বাচিত হলে এই ঝুঁকি মোকাবেলায় কী করা হবে, তারও সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে নির্বাচনী ইশতেহারে। নির্বাচনী ইশতেহার হতে হবে বাস্তবসম্মত ও গণমুখী। ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের সমান অধিকার ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা চাই নির্বাচনী ইশতেহারে।

Previous articleঅর্জুন আর একা নন, বিয়ের জন্য প্রস্তুত!
Next article৬টি আসনের সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট