মেয়েকে তুলে নেয়ায় ছেলের গরু বিক্রি করে দিলেন আ.লীগ নেতা

498

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরের শার্শা উপজেলার গোকর্ণ গ্রামে মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ছেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার লোকজন।
আওয়ামী লীগ নেতা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে দ্বিতীয়বারের মতো তুলে নিয়ে গেছে আলমগীর। মেয়েকে বাড়ি পৌঁছে না দিলে অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর হবে।
তবে অভিযুক্ত আলমগীর বলেন, আব্দুল জলিলের মেয়ে আগেরবার আমার সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় দেড় লাখ টাকা চেয়েছেন। সেই টাকা না পাওয়ায় মেয়েকে অন্যত্র সরিয়ে রেখে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। তার মেয়ের সঙ্গে আমার এখন কোনো সম্পর্ক নেই, তার মেয়ে কোথায় আছে আমি জানি না।
স্থানীয়রা জানান, ২৮ অক্টোবর সকালে শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের গোকর্ণ গ্রামের আলমগীর হোসেন ও লাবণী আক্তার প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে মনিরামপুর উপজেলায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
আলমগীর হোসেন গোকর্ণ গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে। লাবণী আক্তার একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের মেয়ে।
আগেরবার পালিয়ে যাওয়ার পর ১ নভেম্বর মনিরামপুর থেকে লাবণী আক্তারকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনার পর মেয়ের বাবা আব্দুল জলিল ছেলের পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন।
এরই মধ্যে ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে অন্যত্র পালিয়ে যান লাবণী। এ ঘটনার পর মেয়ের বাবা ও তার লোকজন ছেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারপিট করে হাসপাতালে পাঠান।
শুক্রবার রাতে জলিল ও তার স্ত্রীর নেতৃত্বে রতন আলী, মাসুদ, শরিফুল, সাগর, মোহাম্মাদ, হাসেম, ইমামুল, কামাল, জালালসহ ২০-২৫ জনের একটি দল ছেলের বাবা শুকুর আলীর বাড়িতে হামলা চালান।
এ সময় ছেলের বাবার একটি গরু নিয়ে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তারা। সেইসঙ্গে পানির মোটর, ১৫০টি গাছ, বাড়ির আসবাবপত্র ও দরজা-জানালা ভেঙে তছনছ করে দেয়া হয়।


আলমগীর হোসেন বলেন, মেম্বারের মেয়ে কবে কখন কোথায় গেছে তা আমি জানি না। তার দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়নি বলে মেয়েকে অন্যত্র রেখে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে। এ নিয়ে দুইবার হামলা করেছে তারা।
আলমগীর হোসেনের বাড়িতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করে আব্দুল জলিল বলেন, আলমগীর এর আগেও আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। এবার আবার নিয়ে গেছে। আমার মেয়েকে বাড়ি পৌঁছে না দিলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। এ ঘটনায় আমি মামলা করব।
শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খাইরুল আলম বলেন, শুনেছি জলিল মেম্বারের লোকজন শুকুর আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে গরু, ১৪০টি গাছ ও ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Previous articleসাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধ ভেঙে দুই গ্রামসহ শতাধিক মৎস্য ঘের প্লাবিত
Next article‘রাজনৈতিক কারণেই আবুকে হত্যা করা হয়েছে’