বুড়িগঙ্গায় মনোনয়নপ্রার্থীর লাশ # দোষারোপের খেলা নয়, খুনের বিচার

173

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিতে যশোর থেকে ঢাকায় এসে আবু বকর আবু যেভাবে লাশ হয়ে ফিরে গেলেন, তা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত এ চেয়ারম্যানেরই যদি এমন পরিণতি হয়, তাহলে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা আরও উদ্বিগ্ন যে, আবু খুনের পর তার হত্যাকা-ের কারণ অনুসন্ধান ও খুনিদের শনাক্ত করার ব্যাপারে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পরস্পরকে দোষারোপের খেলায় মেতেছে। রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে আবু বকরের লাশ উদ্ধারের পরপরই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলীয় কোন্দলের কারণে আবুর এমন পরিণতি। আমরা মনে করি, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই এ ধরনের ‘ঢালাও’ মন্তব্য সুষ্ঠু তদন্তের অন্তরায় হওয়া ছাড়া আর কোনো ফল বয়ে আনবে না।
রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু নিয়ে এমন রাজনীতির খেলা খুনিদেরই কেবল বেপরোয়া করে তুলবে। তিনি যে হোটেলে ছিলেন, তার সিসি ক্যামেরায় তাকে একাই হাতে ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, তার নিজের ও অন্য একটি মোবাইল ফোন থেকে কথা বলে আদায় করা হয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার টাকার মুক্তিপণও। এতে স্পষ্ট হয়, তার হত্যাকা- আকস্মিকভাবে ঘটেনি। নেপথ্যে যারাই থাকুক, তাদের অনেক দিনের পরিকল্পনার ফল এটি। আমরা দেখতে চাইব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাকা-ের সুরাহা করতে সর্বাত্মক শক্তি নিয়োগ করেছে। আবু বকর খুনের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার যে কথা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শুক্রবার বলেছেন। আমরা এর আশু ফল দেখতে চাইব। একই সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদী এলাকায়ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসে সেখান থেকে সাতটি লাশ উদ্ধার হয়েছে। রাজধানীর এই প্রাণপ্রবাহ কেন ‘লাশের নদী’ আখ্যা পাচ্ছে, খতিয়ে দেখা জরুরি। অস্বীকার করা যাবে না, যে কোনো হত্যাকা-েরই সুরাহা হওয়া উচিত। বিচার পাওয়া উচিত তার স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু আবু বকর আবুর হত্যাকা-কে আর দশটি খুনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার অবকাশ নেই। যদি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তার খুনিরা শনাক্ত না হয়, তাহলে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। আমরা এই আশঙ্কাও করি যে, আবু বকরের হত্যাকা- মনোনয়ন নিয়ে কোন্দলে লিপ্ত অন্যদেরও ‘প্রতিপক্ষ নির্মূল’ করার নেতিবাচক পথ দেখাতে পারে। আবু বকরের খুনিরা ধরা না পড়লে সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোও উৎসাহিত হবে। সেই পরিস্থিতি কারও জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। আবু বকরের হত্যাকা- নিয়ে চাপান-উতরে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তো নয়ই।

Previous articleবরিশালে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের  ব্রেইল পদ্ধতিতে  কোরআন শিক্ষার কার্য্যক্রমের উদ্বোধন
Next articleজনপ্রিয় নেতা বনাম যোগ্য নেতা