সিইসি পরিবর্তনের দাবি কামাল হোসেনের

207


কল্যাণ ডেস্ক : কে এম নূরুল হুদা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না অভিযোগ করে তাকে অপসারণের দাবি তুলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা কামাল হোসেন।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তিনি।
গণফোরাম সভাপতি কামাল বলেন, “চিফ ইলেকশন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্ট হতে পারিনি বলে আমাদের একটা দাবি হল উনার পরিবর্তে একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হওয়া উচিৎ।”
আপনি কি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তন না পদত্যাগ চান-প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা তার পদত্যাগ বহু আগে চেয়েছি। আমরা উনাকে রিমুভ নয়, উনাকে রিপ্লেস করা (চাইছি)।”
তবে কামাল একই সঙ্গে বলেছেন, সিইসিকে সময় দিতেও তাদের আপত্তি নেই।
“আপনার (সিইসি) কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের মত পরিবর্তনও করতে পারি। যদি দেখি, আগে যাই করছেন, আজকে থেকে আপনি নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা রাখেন।”
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বড় দল বিএনপি ইসির ভূমিকা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তুলে আসছে। নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ইসিতে নালিশ জানিয়ে আসছে তারা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি নূরুল হুদা শনিবার বলেছিলেন, পুলিশ বিনা কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করছে না।
তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার সাংবাদিকদের বলেন, “তিনি বলেছেন অত্যন্ত মারাত্মক কথা- ‘পুলিশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, আমাদের অধীনে আছে, যা করছে আমাদের নির্দেশেই করছে’-তাহলে যত গায়েবি মামলা, যত হয়রানি সব তাদের নির্দেশে হচ্ছে! তাহলে তো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হল না।”
গ্রেপ্তার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেন, “কোন লোকদের ধরানোর ব্যাপারে আপনি আদেশ দিচ্ছেন, ভেঙে বলুন, তথ্য সহকারে বলুন। যাতে আমরা এটা যাচাই করে দেখতে পারি যে আপনি যুক্তিসঙ্গত কারণে ধরাচ্ছেন, না কি সরকারের একজন সহায়ক হিসেবে করছেন।”
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, যেভাবে ধরপাকড় ও অন্তরীণ করা হচ্ছে, তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক নয়। আমরা বলতে চাই, পাইকারি হারে গ্রেপ্তার বন্ধ করা দরকার।”
বিএনপি নেতা, কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে, তার আলোকচিত্র সাংবাদিকদের দেখান কামাল।
পুলিশকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কামাল বলেন, “গণগ্রেপ্তার হচ্ছে। জেলখানা কীভাবে ভর্তি হয়ে গেছে, আমরা পরিসংখ্যান দেব। সেখানে লোক রাখারও সুযোগ নেই। এটা তো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হতে পারে না।”
সরকারি দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন প্রটোকলসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কিন্তু বিরোধী দলের প্রার্থীদের প্রচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গণভবন, মন্ত্রীদের বাসভবন ও সরকারি অফিস রাজনৈতিক কর্মকা-ে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
“নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও তারা আইন বহির্ভূতভাবে বিরোধী পক্ষে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। এমনকি যারা নির্বাচন প্রার্থী হবেন তাদেরও উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় গ্রেপ্তার ও মামলা দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা যেন স্বল্প সময়ে জামিন পেতে না পারেন, সেজন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ৩ নতুন মুখ
জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ আমলের অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, সাবেক সেনা কর্মকর্তা আমসাআ আমিন ও একুশে টিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম গণফোরামে যোগ দেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানান গণফোরাম সভাপতি কামাল।

Previous articleখুলনা বিভাগে বিএনপির মনোনয়ন যারা পাচ্ছেন
Next articleহাসিনার অভিব্যক্তিতে ‘ভেসে উঠল আটপৌরে মায়ের মুখ’