‘নির্বাচনের উৎসব হওয়ার কথা থাকলেও আতঙ্কে বিএনপির কেউ বাড়ি থাকতে পারছে না’

0
934

কল্যাণ রিপোর্ট : ‘নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পরও বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। আওয়ামী লীগের ক্যাডার ও পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। নির্বাচনের উৎসব হওয়ার কথা থাকলেও আতঙ্কে কেউ বাড়ি থাকতে পারছে না।’ সোমবার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছে যশোর জেলা বিএনপি।


যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু অভিযোগ করেন, গত ১ ডিসেম্বর শার্শায় বিএনপির ৪২ নেতাকর্মীর নামে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। জেলায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে। তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে মোটা টাকা দাবি করছে। বলছে, টাকা না দিলে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি হলে পেন্ডিং নাশকতা মামলা দেওয়া হচ্ছে। হুমকি-ধামকি দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া করছে শাসক দলের সন্ত্রাসীরাও। সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই।


যশোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শাসক দল ১০ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছে। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক করা হবে না, বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ করতে বলছে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে অস্ত্র মামলায় আসামি করার হুমকিও দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িছাড়া হওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আর পুলিশ নেতাকর্মীদের বাজারে উঠতে নিষেধ করছে।
যশোর-১ (শার্শা) আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি অভিযোগ করেন, শার্শায় গত ১ ডিসেম্বর বিএনপির ৪২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হয়রানি করছে। নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ নেই।
এর আগে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুনির্দিষ্টভাবে এসব অভিযোগ গতকাল সকালে যশোরের পুলিশ সুপার মইনুল হককে জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপার তাদের কথা শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের পর নেতারা একই অভিযোগ নিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু।

LEAVE A REPLY