যশোরে সাংবাদিক জুয়েল-মিথুন-আজাদ ও মিলনকে মারধর

3232

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আক্রান্ত হয়েছেন চার সাংবাদিক। সন্ত্রাসীরা তাদের মারধর করা ছাড়াও একটি মুভি ক্যামেরা ভেঙে দেয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের মুড়লি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সেখানে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকেও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
গোটা ঘটনার জন্য নৌকা সমর্থক সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বদানকারীর নাম ইব্রাহিম।
আক্রান্ত সংবাদকর্মীরা হলেন, সময় টিভির জুয়েল মৃধা, একই টিভির ক্যামেরাপারসন আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর নিজস্ব আলোকচিত্রী এহসান-উদ-দ্দৌলা মিথুন এবং লোকসমাজের ফটোসাংবাদিক মিলন রহমান।

হামলার নেতৃত্ব দেয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী টাক ইব্রাহিম

আক্রান্ত জুয়েল মৃধা জানান, তিনি অফিস অ্যাসাইনমেন্টে কেশবপুর গিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের নির্বাচনী কার্যক্রম কাভার করতে। ফেরার পথে শহরের মুড়লি জোড়া মন্দির এলাকায় লোকজনের জটলা দেখে মোটরসাইকেল থামান। ডেকে একজনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, কিছু সময় পর এখানে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী টেন্ট উদ্বোধন হবে।
সংবাদটি সংগ্রহের জন্য তিনি ওখানে থেকে যান। অল্পসময়ের মধ্যে দেখতে পান, ৩০-৪০ জন যুবক লাঠিসোটা হাতে সেখানে হাজির হয়। তারা প্রথমেই সময় টিভির ক্যামেরাপারসন আবুল কালাম আজাদের ওপর চড়াও হয়। সন্ত্রাসীরা আজাদের কাছ থেকে মুভি ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এই সময় সংবাদকর্মী দুইজনের সঙ্গে তাদের কিছু সময় ধস্তাধস্তি হয়। সন্ত্রাসীরা আজাদকে মারধরও করে। এক পর্যায়ে জুয়েল ক্যামেরা ফেরত পেলেও সেটি আর ব্যবহার-উপযোগী নেই। ভেতরে থাকা মেরোরি কার্ডও নিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
জুয়েল বলেন, ‘আজাদকে মারধর ও ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার সময় পালের গোদা নিজেকে ইব্রাহিম নামে পরিচয় দেয়। সে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে সোজা জানিয়ে দেয়, ক্যামেরা নিতে হবে শাহেদ সেন্টার (নৌকার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদের কাজীপাড়ার বাসভবন কাম অফিস) থেকে।’
জুয়েল জানান, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি হওয়ায় তা কাভার করার জন্য পরে প্রথম আলোর নিজস্ব আলোকচিত্রী এহসানউদ্দৌলাহ মিথুন ও লোকসমাজের ফটোসাংবাদিক মিলন রহমান মুড়লি যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোমাত্র এই দুই সংবাদকর্মীও একই সন্ত্রাসীদের হাতে আক্রান্ত হন। চার-পাঁচ সন্ত্রাসী ঘিরে ধরে মিলন রহমানকে বেধড়ক মারপিট করে। আর ধাওয়া দেওয়ার সময় ইটের আঘাতে আহত হন মিথুন।
মিলন ও মিথুন সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ঘটনা বর্ণনা করেন। এই দুই সংবাদকর্মী জানান, সন্ত্রাসীদের অধিকাংশের মুখ সবুজ কাপড়ে ঢাকা ছিল। তবে তারা নৌকা সমর্থক বলে নিজেদের পরিচয় দেয়।
আক্রান্ত হওয়ার খবর সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকেই জানান সাংবাদিকনেতাদের। তাদের পরামর্শে আক্রান্ত জুয়েল মৃধা মুড়লি থেকে সোজা কোতয়ালী থানায় আসেন। সেখানে ওসিকে না পেয়ে আরেকজন ইনসপেক্টরকে তিনি ঘটনা জানান। কিন্তু ওই ইনসপেক্টর বিষয়টি আমলে নিতে চাননি ঘটনার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন বলে জুয়েলের অভিযোগ।
এদিকে, সংবাদকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে জড়ো হন সহকর্মীরা। সন্ধ্যার পর প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে তারা জরুরি সভায় মিলিত হন।
এই সভা থেকে সংবাদকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, এমন অবস্থা চলতে থাকলে সাংবাদিকতা করা সম্ভব না।
তারা বলেন, কাজী নাবিল আহমেদ সংবাদমাধ্যমের লোক। তার লোকেরা সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হবে- এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সাংবাদিক বৈঠকে সহকর্মীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার দাবি করা হয়। এছাড়া যশোরে সুষ্ঠু ভোট ও সাংবাদিকদের কাজের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির দাবি করা হয় সদর আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, রিটার্নিং অফিসার এবং পুলিশ সুপারের কাছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, সাবেক সম্পাদক আহসান কবীর, সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মনোতোষ বসু ও আনোয়ারুল কবীর নান্টু, যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মৃধা, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদ জামান, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান মুনির প্রমুখ।
পরে প্রেসক্লাব সভাপতি ফোনে ঘটনা জানান পুলিশ সুপারকে। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে পুলিশের উপস্থিতিতে দুর্বৃত্তরা কীভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন রাখেন।
করণীয় নির্ধারণের জন্য রাত নয়টায় একই স্থানে দ্বিতীয় দফা সভা ডাকা হয়েছে।

LEAVE A REPLY