অমিতের বক্তব্যে সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ি হয়ে উঠেছেন মহিলা ও তরুণ ভোটাররা

0
240

কল্যাণ রিপোর্ট : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার এবং নিরাপদ জীবন ফিরিয়ে আনতে যশোর-৩ আসনের মহিলা ও তরুণ ভোটাররা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। হামলা-মামলা মৃত্যুর ভয়সহ শত প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে তারা ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করছেন। পুরুষ ভোটারদের মত তারাও ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তারা আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শাসক দলকে বিগত উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনের মত ভোট ডাকাতি করার সুযোগ দেবেন না। তারা ভয়কে জয় করে ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পুরুষের পাশাপাশি মাঠে থাকবেন তারা। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শুরুর দিন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের গণসংযোগ ও পথসভার মধ্য দিয়ে তারা এমন আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠছেন।
প্রতিদিনের মতো গতকাল শুক্রবার আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গণসংযোগ, পথসভা ও পয়াত নেতা-কর্মীদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন।
এদিন তিনি সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন ও যশোর পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। সকালে প্রথমে তিনি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী, সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, জামায়াত নেতা ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী ও জামায়াত নেতা আবুল হাশিম রেজাকে সাথে নিয়ে বের হন। প্রথমে তিনি ফতেপুর ইউনিয়নের ঝুমঝুমপুর, চান্দের মোড় এলাকায় গণসংযোগ করেন। সেখান থেকে ক্লাব মোড়. ও মান্দারতলা বাজারে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। তিনি সীতারামপুর শেখপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পথসভায় যোগ দেন। পথসভা শেষে সীতারামপুরস্থ প্রয়াত ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আফসার উদ্দিন মিয়া এবং হামিদপুরস্থ প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান মোক্কাদেস হোসেন বাবুর কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি হামিদপুর বাজার, বাউলিয়া বাজার, ফতেপুর সন্ত্রাসী বটতলা বাজার, তারাগঞ্জ বাজারে গণসংযোগ শেষে পথসভায় বক্তব্য দেন। তিনি সুলতানপুর উত্তরপাড়ায় গিয়ে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে প্রয়াত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। পরে তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হক বিটুর কবর জিয়ারত করেন। বিভিন্ন পথসভায় আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, অতীতে এই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার দলের ক্যাডাররা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিল ভোট ডাকাতির মাধ্যমে। এবার ৩০ তারিখের নির্বাচনে আমরা তাদেরকে আর সেই সুযোগটি দেবো না। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবো। শেষে আমদের ভোট গুনে নেব। যদিও এখনো নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনুপস্থিত। যে কারণে নির্বাচনী মাঠ অসমতল। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে নির্বাচনের মাঠকে সমতল করবো। পথসভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘ ১০ বছরের সীমাহীন দুঃশাসনের অবসান চাই। এর জন্য আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে সকল প্রতিকূল অবস্থাকে দূর করে ধানের শীষ প্রতীকে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করবো।
গণসংযোগ, পথসভা ও কবর জিয়ারতকালে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল হক খোকন, পথেপুর ইউনিয়ন বিএনিপর সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নজামুল হোসেন বাবুলসহ বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। সেখান থেকে তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পীসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার বিভিন্ন মহল্লায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বয়োবৃদ্ধ ভোটাররা আবেগে আপ্লুত হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন।

LEAVE A REPLY