বিএনপি-আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর

0
285

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও আংশিক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা) আসনের নির্বাচনী এলাকা জীবননগরে চলছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে নৌকা ও ধানের শীষের সরব প্রচারের মাঝে ঘটছে দুর্বৃত্তের হামলায় নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জীবননগর পৌর শহরে বিএনপির প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে কার্যালয়ে রক্ষিত দুটি মোটরসাইকেল, একটি শ্যালো ইঞ্জিন, পোস্টার, মূল্যবান কাগজপত্র, টেলিভিশন ও আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। এ ছাড়া একই রাতে বিএনপির তিনটি ও আওয়ামী লীগের তিনটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।

জীবননগর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘গভীর রাতে আমাদের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ের একদল যুবক নৌকার স্লোগান দিতে দিতে অগ্নিংসযোগ করে। এ ছাড়া পৌর এলাকার আরো তিনটি ক্যাম্প ভেঙে দেওয়া হয় এবং ছিঁড়ে ফেলা হয় এসব এলাকায় ব্যানার, পোস্টার।

জীবননগর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, রাত সাড়ে ১২টার পর জীবননগর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে ব্র্যাক ব্যাংকের পাশে অবস্থিত বিএনপির নির্বাচনী অফিসে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত হাজির হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। প্রাথমিক তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেও হতে পারে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে, জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল বলেন, ‘গতকাল রাত ১০টার পর পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পটি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের কর্ন্দপপুর ও সুটিয়া গ্রামে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, আমাদের ক্যাম্পগুলো ভাঙচুরের সময় ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে ভাঙা হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে শুনেছি নৌকার স্লোগান দিয়ে তাদের অফিস ও ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে অন্য কোনো পক্ষ জড়িত থাকতে পারে এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

জীবননগর নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গণি মিয়া বলেন, ব্র্যাক ব্যাংকের সন্নিকটে বিএনপির কার্যালয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। আমি নিজে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY