যশোরে পুত্রবধূকে ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় শাশুড়ি খুন, ৩ জনের যাবজ্জীবন

474

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরে নববধূকে ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় শাশুড়ি রহিমা বেগম লিপিকে (৫০) হত্যার দায়ে ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদ- অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো ২ বছর কারাদ- দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ রব হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলো।
দ-প্রাপ্ত আসামিরা হল-যশোর জেলা সদরের ইছাপুর গ্রামের মনছের আলির ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম (২৬), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. জাহিদ (২৬) ও শহীদ মোল্লার ছেলে মো. কুদ্দুস (২৬)। খালাস হওয়া আসামি হলেন মহাদেবপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৭)।
আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ইছাপুর গ্রামের দিনমজুর মো. লিটনের নববধূ লাবনীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে আসামিরা। এ সময় লিটনের মা লিপি বেগম তাদের বাঁধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা ধারালো দা দিয়ে শাশুড়ি লিপি বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. লিটন বাদী হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি সাইদুল ও জাহিদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২ জনকে আসামি করে যশোর কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো জানান, ২০১৫ সালের ২৭ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর কোতয়ালী থানার এসআই মো. মাসুম বিল্লাহ আদালতে সাইদুল, জাহিদ ও কুদ্দুসকে অভিযুক্ত এবং সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে বাদী ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী দেন। আদালত নারাজী গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করেন। পরে সিআইডি পরিদর্শক মো. হারুন-অর-রশিদ আবারও সাইদুল, জাহিদ ও কুদ্দুসকে অভিযুক্ত এবং সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত মামলার চার্জগঠনের সময় সাইফুল ইসলামকে সংযুক্ত করে চার্জগঠন করে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এনামুল হক ও অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট শাকেরিন সুলতানা।

LEAVE A REPLY