নিখোঁজ দুইজনের গুলিবিদ্ধ লাশ জীবননগর ও মহেশপুর হতে উদ্ধার

367

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা হতে নিখোঁজ হয়েছিলেন ইমরান ও লিটু। তাদের মধ্যে জীবননগর উপজেলার উথলী হতে ইমরানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লিটুর গুলিবিদ্ধ লাশ পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা হতে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জীবননগর ও মহেশপুর থানা পুলিশ পৃথকভাবে তাদের লাশ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এদের দুজনকে মাইক্রোবাসযোগে আলমডাঙ্গা হতে তুলে নেওয়া হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। দুইটি হত্যাকান্ড একইভাবে ঘটানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে দুইজনের হত্যাকারী একই গ্রুপ।
উথলী গ্রামবাসী জানিয়েছে, উথলী গ্রাম হতে উদ্ধারকৃত লাশটি আলমডাঙ্গার ইমরানের (২৬) বলে তার মা শনাক্ত করেছে। ইমরান আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা ও বৈদ্যনাথপুরের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। ইমরানের মাথায় এবং বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা ইমরানকে কেনো হত্যা করেছে সে ব্যাপারে জীবননগর থানা পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি। ইমরান আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দ্দারসহ বহু অপকর্মের হোতা বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানায় ডাকাতি, ছিনতায়, ইভটিজিং, মোবাইল ছিনতাই ও চুরির দুইডজন মামলা রয়েছে।


অপরদিকে আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে ছিনতাই চক্রের সদস্য লিটুরও (২৮) বুকে এবং কানের নিচে গুলি করে একইভাবে হত্যার পর লাশ জীবননগর-কালীগঞ্জ সড়কের ধারে মহেশপুর থানার কানাইডাঙ্গায় ফেলা রাখা হয়। লিটুর পিছমোড়া করে হাত ও পা বাধা এবং মুখে স্কচটেপ সাঁটা ছিলো।
আলমডাঙ্গার থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মুন্সী জানান, ‘আলমডাঙ্গার দুইজনকে জীবননগর ও মহেশপুরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেছে শুনেছি। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া জানান, ‘নিজেদের মধ্যে অর্ন্তদ্বনেন্দ্ব ইমরান খুন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার মোটিভ উদ্ধার ও খুনিদের শনাক্তকরণে পুলিশ কাজ করছে।’
চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র এএসপি (দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেল) আবু রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহত ইমরান চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলো।’
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কোটচাঁদপুর সার্কেল) মীর্জা সালেহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে কোন স্থানে হত্যার পর অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা লাশটি ওই স্থানে এনে ফেলে রেখে যায়।’

LEAVE A REPLY