ভারতীয় হুনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ট দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী গ্রামের কৃষকরা

0
165

জিবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা, কামারপাড়া ও বাড়াদি গ্রামে ভারতীয় হুনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে গ্রামের কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ আবাদী ফসলসহ আম, লিচু, কলা, কোন কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না হুনুমানের হাত থেকে। মাঠের ফসল রক্ষা করতে না পেরে সর্বস্বান্ত হচ্ছে কৃষকরা। বর্তমানে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল রক্ষা করতে ধারালো অস্ত্র ও বাশের লাঠি নিয়ে পাহারা দিচ্ছে। সুযোগ পেলে তারা মানুষকে আক্রমণ করে।
এলাকাবাসী জানায়, ছয়/সাত বছর আগে ১০/১২টির একদল ভারতীয় হুনুমান সীমান্ত পেরিয়ে দামুড়হুদার কামারপাড়া গ্রামে প্রবেশ করে। এর বংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০তে দাড়িয়েছে। এসব হুনুমান একত্রে থাকে না। এরা ৪০/৫০টি করে দল বেধে পৃথক পৃথক আম বাগান, বাশ বাগান ও কাঠাল বাগানে আশ্রয় নিয়ে থাকে। সুযোগ বুঝে এরা দল বেঁধে মাঠের ফসলে হানা দেয়। এদের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে লাঠি , ধারালো হাসুয়া ও লম্বা লগা হাতে নিয়ে সকাল খেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকদের তাদের ফসল পাহারা দিতে হয়। এরইমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সীমান্তবর্তী কামারপাড়া ও বাড়াদী গ্রামের মাঠে।
কামারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম, রবিউল ইসলাম, হাতেম মেম্বও, নুর ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন ও বসির উদ্দিন জানান, তাদের জমির ফসল পটল, মুগ, কলাই, পাট, কলা, বাগানের আম, লিচু ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। কোনো কিছুই হুনুমানের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। ফসল রক্ষা করতে গিয়ে স্থানীয় কিশোররা গুলতির ব্যবহার করলেও তা কোনো কাজে আসছে না। এক মাঠ থেকে তাড়ালে আরেক মাঠে হানা দেয়।
কামারপাড়া গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া জানান, এরা শুধু মাঠের ফসলের নয় এদের অত্যাচারে ঘরের টিনের চাল, ঘরের হাড়ি-পাতিলও রক্ষা পায় না। টিনের চালের ওপর লাফালাফি করে টিনের চাল নষ্ট করে দেয়। গ্রামের ঘরের টিন রক্ষা করতে প্রত্যেক টিনের চালে বিভিন্ন ধরনের কাটা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও মাঠে কাউকে একা পেলে আক্রমণ করে।
হুনুমানের খোঁজে সুজন মিয়ার সাথে গ্রামের সীমান্তবর্তী গালার মাঠে গেলে একদল হুনুমানকে পাওয়া গেলেও তারা লাফিয়ে বাঁশ ঝাড়ের মাথায় উঠে যায়।
এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিউর রহমান জানান, হুনুমানের দল ক্ষুধার তাড়নায় ফসল খাওয়াসহ ফসলের ক্ষতি করছে। এদেরকে যদি গ্রামবাসী খাবারের ব্যবস্থা করে তা হলে হয়তো তারা আর মাঠের দিকে যাবে না।
দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মশিউর রহমান জানান, বন্যপ্রাণী হত্যা করার কোনো নিয়ম নেই। তবে এদেরকে খাবার দিলে এরা কিছুটা হলেও শান্ত থাকতে পারে।
পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম জাকারিয়া আলম জানান, হুনুমান সীমান্ত এলাকার
মাঠগুলোতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এলাকার কৃষকরা প্রতিদিন আমার কাছে আসছে হুনুমানের হাত থেকে তাদের মাঠের ফসল রক্ষা করার পরামর্শ নিতে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় তাদের বিতাড়িত করতে পটকা বা কোনো ধরনের উচ্চ শব্দের বাজি ফুটানো যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY