ডেঙ্গুর ভয়ে কলকাতা ছেড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের পরিবার

0
200

 

পরিবারের সাথে বালক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সবার বামে)। ছবি : সংগৃহীত

কল্যাণ ডেস্ক : ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে কলকাতার জোড়াসাঁকোর বাড়ি ছেড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার। সেটা আজ থেকে প্রায় দেড় শ বছর আগে কথা। ঘটনাটি ঐতিহাসিকভাবে সত্য। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও রবীন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতি বিশ্লেষন করে এ তথ্য জানা যায়।
১৮৭২ সালের ৮ মে নব গোপাল সম্পাদিত পত্রিকা ন্যাশনাল পেপার-এ খবর এসেছিলো, ডেঙ্গু রোগ কলকাতার আবালবৃদ্ধবনিতা কাউকে ছাড়ছে না। এমনকি ইউরোপিয়ানরাও আক্রান্ত হচ্ছে। দেশীয় এমন কোনো পরিবার বাকি নেই যেখানে কেউ না কেউ এ রোগের শিকার হয়নি।
ন্যাশনাল পেপার-এ ডেঙ্গু নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭১ সালে। ওই সংবাদে ৫০০ জন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বাংলায় ১২৭৮ বঙ্গাব্দের (১৮৭১ সাল) আষাঢ়-শ্রাবণে এ ব্যাধির প্রকোপ বেড়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়।
তখনো ডেঙ্গু হলে এখনকার মতো জ্বর, গায়ে ব্যথা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিত। মাত্র তিন-চার দিনে রোগী এমন দুর্বল হয়ে যেত যে পরে কিছুদিন তাকে একরকম পঙ্গু জীবন যাপন করতে হতো। পত্রপত্রিকা সূত্রে আরো জানা যায়, এই ব্যাধির প্রকোপে সে সময় বহু স্কুল-কলেজে ছাত্র-শিক্ষক উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। ফলে একসময় প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়েছিল ছুটি ঘোষণা করতে।
১৮৭২ সালের (১২৭৯ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মে যখন রোগটির সংক্রমণ সর্বব্যাপী হতে শুরু করে, সে সময় কলকাতার অবস্থাপন্ন পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল শহর থেকে কিছু দূরে, গঙ্গাতীরবর্তী বাগানে। আর ডেঙ্গুর কারণেই জীবনে প্রথমবারের মতো কলকাতার বাইরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। জীবনস্মৃতিতে তিনি লিখেছেন, ‘একবার কোলকাতায় ডেঙ্গুজ্বরের তাড়ায় আমাদের বৃহৎ পরিবারের কিয়দংশ পেনেটিতে (পানিহাটিতে) ছাতুবাবুদের বাগানে আশ্রয় লইল। আমি তাহার মধ্যে ছিলাম।’
ঠাকুরবাড়ির হিসাব খাতার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পানিহাটির বাগানবাড়িটি ভাড়া করেছিল ঠাকুর পরিবার। পরে ১ জুলাই সেখান থেকে তাদের নিয়ে আসার জন্য গাড়ি পাঠানো হয়েছিল বলেও খাতায় উল্লেখ রয়েছে।
এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে এটি বেরিয়ে আসে যে রবীন্দ্রনাথসহ ঠাকুরবাড়ির বৃহৎ পরিবারের অনেকে ডেঙ্গু থেকে আত্মরক্ষার জন্য ১৮৭২ সালের ১৪ মে মঙ্গলবার থেকে ৩০ জুন রোববার পর্যন্ত পানিহাটির বাগানবাড়িতে ছিলেন। ডেঙ্গুর প্রকোপ কমলে তারা আবার জোড়াসাঁকোয় ফিরে যান।

LEAVE A REPLY