শার্শায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন পিবিআই কর্মকর্তারা

0
116

বেনাপো (যশোর) প্রতিনিধি : ঘুষ না পেয়ে আসামির স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইয়) এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা বিভাগীয় পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে কর্মকর্তারা ভিকটিমের বাড়িতে যান। এসময় তারা প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে সেইসময় ভিকটিম বাড়িতে ছিলেন না।
পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই চলছে। আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তদের ডিএনএ পরীক্ষাও করানো হবে।’
উল্লেখ্য, যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর এলাকায় গত ২ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন এক গৃহবধূ। তার অভিযোগ, স্থানীয় গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম ও তার সোর্স কামরুজ্জামার ওরফে কামারুল তাকে ধর্ষণ করে। এছাড়া লতিফ ও কাদের নামে আরও দুজন তখন ঘরের বাইরে অবস্থান করছিল।
৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোনায়েম হোসেনের পাশাপাশি গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পিবিআইয়ের খুলনা বিভাগীয় প্রধান পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান মিয়া। এসময় তার সঙ্গে যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট ওই নারীর স্বামীকে পুলিশ আটক করে। পরে ভিকটিম অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম। টাকা না দেওয়ায় তাকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে চালান দেওয়া হয়।
২ সেপ্টেম্বর গভীররাতে এসআই খায়রুল, সোর্স কামারুলসহ চারজন ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় এসআই খায়রুল ও কামারুল তাকে ধর্ষণ করেন বলে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন।
৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওই গৃহবধূ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্যে সেদিন বিকালেই আলামত সংগ্রহ করেন ডাক্তাররা।
এদিকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় জেলা পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ধর্ষণের এই ঘটনায় ওই গৃহবধূ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে শার্শা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় এসআই খায়রুলের নাম রাখা হয়নি। বাদী ওই গৃহবধূ পরে সাংবাদিকদের জানান, ভয়ে তিনি পুলিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি। মামলায় আসামি করা হয় শার্শার চটকাপোতা এলাকার কামরুজ্জামান ওরফে কামারুল, লক্ষণপুর এলাকার আব্দুল লতিফ এবং আব্দুল কাদেরকে। একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।
৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন ইনসপেক্টর শেখ মোনায়েম হোসেন। দায়িত্ব পেয়েই তিনি নির্যাতিত ওই গৃহবধূ ও মামলা বাদীর বাড়ি পরিদর্শন ও জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
৭ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের সোয়াপ কালেকশন করে ডিএনএ প্রোফাইলের জন্যে সিআইডি হেড কোয়ার্টার্সে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে মামলার আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষারও উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এইদিন রাতেই শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমানকে বদলি করে যশোর পুলিশ অফিসে সংযুক্ত করা হয়।
৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার তিন আসামিকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অপরদিকে, পুলিশের গঠন করা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও সাত দিন বাড়ানো হয়।

LEAVE A REPLY