ঘুষের ২০ লাখ টাকার লেনদেন হওয়ার সংবাদে রেজিষ্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযান !

0
168


কল্যাণ রিপোর্ট : যশোর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ঘুষের ২০ লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের এক পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত যোগ দেয়। দুদক তিনজনকে আটক করে আদালতের কাছে হস্তান্তর করলে ঘুষের টাকার লেনদেনের কোন প্রমাণ না পাওয়ায় আটককৃতদের মুচলেকায় ছেড়ে দিয়েছে।
একই সাথে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় রেজিষ্টি অফিসের প্রধান সহকারি ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছে দুদক। মুচলেকায় মুক্তরা হলেন, খুলনা টাউন নওয়াপাড়ার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাহজাদী ইয়াসমিন, যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার পরান আলীর ছেলে ও সাব-রেজিষ্টার অফিসের এমএলএসএস রফিকুল ইসলাম, অভয়নগর উপজেলার হরিসপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
সাব রেজিষ্টি অফিসের সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধানসহকারী ইব্রাহিম হোসেন দুদকের যশোরস্থ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুস চ্ছায়াদাতকে মঙ্গলবার দুপুরে ফোন দিয়ে জানান, রেজিষ্ট্রি অফিসে ঘুষের ২০ লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে। বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করলে তিনি পূর্বের কর্মসূচি বাদ দিয়ে যশোর রেজিষ্ট্রি অফিসে যান বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে। এসময় শাহজাদী ইয়াসমিন, রফিকুল ইসলাম ও জহুরুল ইসলামকে আটক করেন এবং তাদেরকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘুষের টাকার লেনদেন হচ্ছে এমন অভিযোগ না পেলে দুদক পরিচালক বিষয়টি দেখার জন্য উপস্থিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই ম্যাজিষ্ট্রেট রাসনা শারমীন মিথি ও নিলুফার সুলতানাকে জানান।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার শেখ জালাল উদ্দীন জানান, আদালত এসময় তাদেরকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু হাতেনাতে কোন ঘুষ গ্রহণ বা নগদ টাকার কোন লেনদেন না হওয়ায় আটক তিনজনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেন।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য যশোর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারি ইব্রাহিমের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সাব রেজিস্টার শাহাজাহান আলীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা বুধবারে দুদকের উপ-পরিচালককে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
রেজিষ্ট্রি অফিসের একটি সূত্রে জানা গেছে, রেজিষ্ট্রি অফিসে চাকুরির জন্য রফিকুল ইসলাম তার মেয়ের জন্য জামাই জহুরুলের মধ্যে শাহজাদী ইয়াসমিনের নিকট ২০ লাখ টাকা দেন সাত মাস আগে। টাকার নেয়ার সময় শাহজাদী তাদেরকে একটি ব্লাংক চেক দেন। চাকুরি দিতে না পারায় রফিকুল ইসলাম ব্যাংক থেকে চেকটি ডিসঅনার করান।
অভিযোগে জানা গেছে, শাহজাদী ইয়াসমিন আওয়ামী লীগের এমপি শেখ হেলাল, শেখ সেলিমের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে এ পর্যন্ত শতাধিক লোকের চাকুরি দেয়ার কথা বলে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। রেজিষ্ট্রি অফিসের রফিকুল ইসলামও ঠিক একই ভাবে তাকে খুঁজতে থাকলে মঙ্গলবার তার দেখা পান রেজিষ্ট্রি অফিসে। এসময় তাকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য দাবি করেন।
দুদকের যশোরস্থ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুস চ্ছায়াদাত সাংবাদিকদের জানান, ঘুষের ২০ লাখ টাকার দেনদেন হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু বিষয়টি তেমন না হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY