অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা : কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় ও ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে

528

বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় ভোক্তারা প্রতিনিয়ত কেবল ঠকছেনই না; একইসঙ্গে তাদের সিন্ডিকেটবাজির কারণে বাজারে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। বাস্তবতা হল, দেশে রেস্টুরেন্ট-হাসপাতাল-ক্লিনিক থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে পণ্য ও সেবার দাম বেশি রাখা হচ্ছে।
এছাড়া অনেক সময় ওজনে কম দিয়েও ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে, যা কঠোরভাবে রোধ করা প্রয়োজন। অবশ্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অসাধু ব্যবসায়ী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দন্ড নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমছে না কেন, এটাই হল প্রশ্ন।
নানা অপকৌশলে ভোক্তাদের ঠকানো ছাড়াও কারসাজি ও যোগসাজশের মাধ্যমে প্রায়ই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, যা অনৈতিক তো বটেই, সেই সঙ্গে অপরাধও। দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিুআয়ের শ্রমজীবীরা স্বভাবতই অসহায় বোধ করেন।
দুঃখজনক হল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন উচ্চবাচ্য হয় না বললেই চলে। বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের শক্ত কোনো ভূমিকা নেই- এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বলার অপেক্ষা রাখে না, যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হলে কেবল ভোক্তাস্বার্থ ক্ষুন্ন হয় না, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
আশার কথা, ব্যবসায়ীদের অসাধুতা ও প্রতারণার বিষয়ে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় সরকার যেসব আইন করেছে, সেগুলোর আশ্রয় গ্রহণকারী তথা অভিযোগকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে; তেমনি অন্যায় ও প্রতারণার প্রতিকারও মিলছে। উল্লেখ্য, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজার অভিযানের মাধ্যমে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে দন্ড দেয়া হলেও প্রতি বছরই এ হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভোক্তা সাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অন্তত ১৯ হাজার ২৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড ও শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। বস্তুত, অসাধু ব্যবসায়ীদের নিরস্ত করতে ভোক্তা সচেতনতার বিকল্প নেই।
পণ্য কেনার সময় সঠিকভাবে যাচাই করার পাশাপাশি কোনো অনিয়ম পেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা ও ঠকবাজি বন্ধ করা সম্ভব। ব্যবসায় মুনাফা অর্জন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও মুনাফা অর্জনের নামে ব্যবসায়ীদের নীতিজ্ঞানহীন ও অসাধু কর্মকান্ড সমর্থনযোগ্য নয়। প্রতারণা ও লোকঠকানোর মানসিকতা পরিহার করে নিত্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্য ও সেবার দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী সমাজ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে, এটাই প্রত্যাশা।

LEAVE A REPLY