প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব

85
যশোরের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন। ছবি : আইয়ুব হোসেন মনা

কল্যাণ ডেস্ক : বছর ঘুরে আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখো ভক্তকে ভারাক্রান্ত করে ঘোড়ায় চড়ে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা। এরই মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) যশোরসহ সারাদেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।

দেবী বিসর্জনের পর সেখান থেকে শান্তিজল এনে তা রাখা হবে মঙ্গলঘটে, দুর্গা মায়ের সন্তানেরা তা ধারণ করবেন হৃদয়েও।

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে শুক্রবার (৪ অক্টোবর) ষষ্ঠীতে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজা৷ পরের তিনদিন আনন্দের বর্ণিল ছটা ছড়িয়ে যায় সর্বত্র৷ আজ (মঙ্গলবার) সেখানে বাজলো বিষাদের করুণ সুর।

সন্ধ্যায় যশোর লালদীঘি পুকুরের তীরে ‘দুর্গা মা কি, জয়। মহামায়া কি, জয়।’ একের পর এক এমন জয়ধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টা বাজিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট থেকে দেবী বিসর্জনের লগ্ন শুরু হয়। ফলে সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে নামে ভক্তদের ঢল। এসময় মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, নাচ, সিঁদুর খেলা হয়। মুখরিত হয়ে ওঠে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা।

একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন মণ্ডপে চলে আবির উৎসব।

দুর্গতিনাশিনী দেবী বাবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে গেলেন স্বামীগৃহে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অসুর শক্তি বিনাশকারী দেবী বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে সব অপশক্তির বিনাশ হবে। শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে যাবে সবখানে।

প্রতিমা বিসর্জনের সময় হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী ভিড় জমান। অনেকে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌকায় করে নদীতে আনন্দ-উৎসব করেন। আবার অনেকে মায়ের বিদায়ের বিরহে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

Previous articleআবরারকে নির্যাতনকারীরা ছিলেন ‘মাতাল’
Next articleআবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here