আইএসের টুপি নিয়ে নান প্রশ্ন : তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন

50

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালে যে হামলার ঘটনাটি সারা বাংলাদেশ নাড়িয়ে দিয়েছিল, গত বুধবার এই মামলার রায় দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। রায়ে সাত জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এক আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা ছিল পরিকল্পিত। দীর্ঘদিন জঙ্গিরা এই পরিকল্পনা করে। হামলা করতে একদল জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপর তারা হামলা করে। কূটনৈতিক এলাকায় বিদেশিদের হত্যা করাই ছিল তাদের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। হলি আর্টিজানে হামলার পর বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকরা অনেক দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। শুধু তা-ই নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য পরিচিত বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুন্ন হয় হামলার মাধ্যমে। কলঙ্কজনক এ হামলার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে।
হলি আর্টিজানে হামলা মামলায় সাত জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। রায় ঘোষণার পর গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা বলেছেন, যে রায় হয়েছে, তা প্রত্যাশিত। এই রায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যে অবস্থান সে সম্পর্কে সারা বিশ্বকে একটি বার্তা দেবে। বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, তার একটি এই বিচারপ্রক্রিয়া, যা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হলো। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রতিক্রিয়া। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, মামলার রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত জঙ্গির মধ্যে অনুশোচনা দেখা যায়নি; বরং রায়ের আগে, পরে ও রায় ঘোষণার সময় তাদের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ। রায় শোনার পর আসামিরা ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সমস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিতে থাকে। আদালত কক্ষ থেকে বের করে আনার সময় তারা স্লোগান দেয়। এ সময় আসামি রাকিবুল ইসলাম ওরফে রিগ্যান মাথায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের পতাকার প্রতীকসংবলিত কালো টুপি পরে ছিলেন। আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার পর জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী নামে আরেক জঙ্গিকেও একই রকম টুপি পরা দেখা যায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, সকালে আদালতে আনার সময় আসামিদের কারো মাথায় এমন টুপি ছিল না। কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আনা এসব জঙ্গি আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপি কোথায় পেল?
এ কথা সবারই জানা, বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে অর্থের বিনিময়ে কারাবন্দিরা অনেক সুবিধা নিয়ে থাকে। বিষয়টি রিগ্যানও টাকা দিয়ে এই টুপি সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। কারা এই সুবিধা দিয়েছে। তারাও কি জঙ্গি আদর্শের অনুসারী? এ ঘটনায় অতিরিক্ত কারা পরিদর্শকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে টুপি সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

LEAVE A REPLY