যশোরে আনসার সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা

57

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে দিনের বেলায় শত-শত লোকের ভীড়ে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে আলী হোসেন তরফদার (৫৫) নামে এক আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যকে।
শনিবার সকাল ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন হাশিমপুর গ্রামের মৃত আরশাদ আলী তরফদারের ছেলে। তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।
নিহত আলী হোসেন অতীতে চরমপন্থী দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৯ সালে সরকারের সাধারণ ক্ষমায় আত্মসমর্পণ করে তিনি আনসারে যোগ দিয়েছিলেন। ঘটনার পর যশোরের পুলিশ সুপার মইনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহতের লাশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল হাশিমপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে শত-শত লোকের ভিড়। বাজারের মোশাররফের চায়ের দোকানের সামনে উপুড় হয়ে পড়ে আছে আলী হোসেনের মরদেহ। রক্ত বেয়ে যাচ্ছে তার পাশ দিয়ে। তার মাথায় ও ডান হাতের নিচে গুলির দাগ। পাশে পড়ে আছে দুটি গুলির খোসা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতক্ষদর্শীরা জানান, তিনি সে সময় ওই চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। তখন অপরিচিত কয়েক ব্যক্তি এসে তাকে গুলি করে দৌড়ে চলে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হাশিমপুরের তরফদার পাড়ায় নিহতের বাড়িতে যেয়ে দেখা যায়, নিহতের মা ও স্বজনরা আহাজারি করছেন। এলাকার মানুষের ভীড় বাড়িতে।
নিহতের মেয়ে জুলি খাতুন জানান, তার বাবার কর্মস্থল ঢাকায়। গত বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসেন। সকালে তার বাবার কাছে একাধিকবার ফোন আসে। এর পর তার বাবা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ১১ টার পরে তিনি তার বাবার এমন মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তবে কে তার বাবাকে ফোন করেছিল তা তিনি জানাতে পারেননি। কারো সাথে তার বাবার শত্রুতা ছিল কিনা তাও তিনি জানাতে পারেননি।
এলাকার সাবেক আনসার কমান্ডার মনিরুদ্দিন মন্টু জানান, আলী হোসেন আগে চরমপন্থী দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিমের সময় তিনি আত্মসমর্পন করে ব্যাটালিয়ন আনসারে যোগ দেন।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার মইনুল হক জানান, নিহত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে বসে ছিলেন। আমরা আলামত দেখেছি। এই মুহূর্তে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান আছে। কি কারণে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে, কারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এগুলো তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসবে।

LEAVE A REPLY