যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী বিহারী শাকিলের অস্ত্র ভান্ডার অক্ষত!

697

“বাহিনী চালাচ্ছে ছোট ভাই আরিফ”

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী শাকিলের অস্ত্র ভান্ডার অক্ষত রয়েছে। এবার বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে শাকিলের ছোট ভাই আরিফ। কারাগার থেকে শাকিলের নির্দেশনায় বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে আরিফ।
ইতিমধ্যে শাকিল-আরিফের বাহিনীর বেশ কয়েকজন ক্যাডার গাঁ ঢাকা দিয়েছে। তারা অস্ত্রও সরিয়ে ফেলেছে। শাকিলকে কারাগার থেকে ছাড়াতে একটি পক্ষ মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছে। তারা যেভাবেই হোক খুব দ্রুতই শাকিলকে জেলাখানা থেকে মুক্ত করবেন। শাকিল দীর্ঘদিন যাবৎ যাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে তারাও এখন শাকিলকে কারাগারের বাইরে দেখতে চায়। এ কারণে শাকিল দ্রুতই ছাড়া পাবেন এমনটাই আশা করছে শাকিল-আরিফ বাহিনীর ক্যাডারা।
সূত্র জানায়, ৯০’ দশকে যশোরাঞ্চলে যে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা শুরু হয় তা শাকিল-আরিফের হাত ধরেই। অস্ত্র ব্যবসা থেকেই গড়ে তোলে বাহিনী। তারা অবৈধ অস্ত্রের ভয় ভীতি প্রদর্শন করে একের পর এক সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আজ কোটি পতি বনে গেছেন। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়না সেলুন, ছোট্ট ছোট্ট মুদি ব্যবাসায়ী থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ীরা। এই বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে আছে শহরের সিটি কলেজপাড়া, বৌ বাজার, ঢাকা রোড, মোল্লাপাড়া, আর এন রোড এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। তাদের চাঁদা দেওয়া বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বাহিনীর ক্যাডারা জুলুম, নির্যাতন চালিয়ে আসলেও ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের দাবি অবলম্বে অরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে দুই ভাইয়ের অস্ত্র ভান্ডার। তবে পুলিশের নিস্ক্রয়তাও নিয়ে নানা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে জনমনে।
গত শনিবার রাতে শাকির-আরিফের ডেরায় অভিযান চালায় যশোর কোতয়ালি থানার পুলিশ। পুলিশ ওই ডেরা থেকে একটি চোরাই মোটর সাইকেল জব্দ করে। কিন্তু অস্ত্র উদ্ধার করতে ব্যার্থ হয়। পুলিশ ভালোভাবে অভিযান পরিচালনা করলে ওই স্থান থেকে খুব সহজেই অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হতো বলে এলাকাবাসী জানায়। কিন্তু পুলিশের সামান্য অভিযান চালিয়েই খ্যান্ত হন। যে কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ নভেম্বর রাতে যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী জয়েব হোসেন শাকিল ওরফে বিহারী শাকিলকে চারটি বিদেশী পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের সদস্যরা। বিহারী শাকিল যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার আব্দুল আউয়াল ওরফে আউয়াল মিস্ত্রির ওরফে বিহারী আউয়ালের ছেলে। তার ছোট ভাই সন্ত্রাসী আরিফ তার প্রধান সহযোগী। তাদের দুই ভাইয়ের অত্যাচারে মোল্লাপাড়া, ঢাকা রোড, আরএন রোড, টায়ার পট্ট্,ি মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানুষ অতিষ্ঠ। তারা অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চোরাই ব্যাটারি ক্রয়-বিক্রয়, চোর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত।
সূত্র জানায়, শাকিল গ্রেফতার হওয়ার পর তার মুক্তির জন্য মোটা অংকের অর্থ নিয়ে মাঠে নামে তার খালাতো ভাই জুয়েল। জুয়েল শাকিল-আরিফের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। জুয়েলের ডায়মন্ড ব্যাটারি ওয়ার্কসর্প দোকান থেকে সকল প্রকার লেনদের করে শাকিল-আরিফ। অভিযোগ রয়েছে, আরিফ-শাকিলের চোর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক জুয়েল। জুয়েল চোর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। সে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তর করতে আরিফ-শাকিলের জড়ো করা অস্ত্র উদ্ধারের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
শাকিল-আরিফের অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ সময় মত সকল অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদেরকে গ্রেফতার করবে। কোন সন্ত্রাসী অস্ত্র ব্যবসায়ী যশোর শহরে থাকবে না।
আরিফের গ্রেফতার জিজ্ঞাসা করলে তিনি আরও বলেন, কারো বিরুদ্ধে সুনিদৃষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ কাউকে ছাড় দেবে না। সে যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।

Previous articleআসছে সিয়াম পরীমনির প্রথম গান
Next articleইজিবাইকের কঠিন সমাধান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here